প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করলো দ. কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২৫-০৪-০৪ ০৯:৪৬:২৯


দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে তার পদ থেকে অপসারণ করেছেন দেশটির সাংবিধানিক আদালত। এর ফলে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ইউন গত বছর সামরিক আইন জারি করে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত এই রায় ঘোষণা করে। আদালতের মতে, গত বছরের ৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারি করেন। তার দাবি ছিল, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি ও উত্তর কোরিয়াপন্থি ব্যক্তিরা সরকারে অনুপ্রবেশ করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি সামরিক আইনের আশ্রয় নেন। তবে আদালত মনে করে, এই পদক্ষেপ ছিল সংবিধানবিরোধী ও জনগণের অধিকার হরণ করে।

প্রেসিডেন্ট ইউন ওই সময় জাতীয় পরিষদ বন্ধ করতে চেয়েছিলেন এবং তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের আটকের জন্য সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তার এই পদক্ষেপ সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। এরপর সংসদের ভোটে তিনি অভিশংসিত হন। যদিও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরাতে সাংবিধানিক আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল।

আদালতের আট বিচারকের মধ্যে ছয়জন প্রেসিডেন্ট ইউনকে অপসারণের পক্ষে রায় দেন। ফলে আইনগত জটিলতা শেষ হয়ে এবার তাকে চূড়ান্তভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। যদিও অভিশংসনের পর থেকে ইউন কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছিলেন না, তবে তিনি পদে বহাল ছিলেন। শুক্রবারের এই রায়ের মাধ্যমে তার দায়িত্বের সম্পূর্ণ সমাপ্তি ঘটলো।

এদিকে, এই ঘটনা কেন্দ্র করে দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখন আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও বেশিরভাগই মনে করছে, আদালতের এই রায় গণতন্ত্রের সঠিক প্রতিফলন।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ইউনের মামলার ১১ দফা শুনানি শেষ হওয়ার পর থেকে আট সদস্যের আদালত পাঁচ সপ্তাহ ধরে আলোচনা চালিয়ে আসছিল, যা ১৯৮৮ সালে সাংবিধানিক আদালত মামলার শুনানি শুরু করার পর থেকে প্রেসিডেন্ট অভিশংসনের বিচারের জন্য ছিল দীর্ঘতম আলোচনা।

সূত্র:আল জাজিরা

এনজে