

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনে জনবল সংকট আছে। নিচের স্তরে জনবল বেশি থাকলেও উপরের স্তরে জনবল নেই। ফলে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জনবল নেই। এছাড়া আর্থিক বিষয়ে এক্সপার্ট লোকেরও অভাব রয়েছে। এমতাবস্থায় বিএসইসিকে পুরোপুরি ঢেলে সাজাতে হবে বলে মনে করে পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স।
সোমবার সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনে মার্জিন রুল সংক্রান্ত চূড়ান্ত সুপারিশ বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন সংস্কার কমিশনের সদস্য এ এফ এম নেসারউদ্দীন।
বর্তমান কমিশন বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে পারছে না এটা কি কমিশনের দায় নয়? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের সদস্য এ এফ এম নেসারউদ্দীন বলেন, মূল বিষয় হলো কমিশন হলো পার্সন। কমিশনের চেয়ে সমস্যা বেশি অর্গানাইজেশনে। বিএসইসিকে পুরোপুরি ঢেলে সাজাতে হবে। ঢেলে সাজাতে গেলে এক্সপার্ট মানুষ লাগবে। এছাড়া এটা সম্ভব না। তাছাড়া এটাতে অনেক সময় লাগবে। যেটা সরকারী কাজের প্রক্রিয়ায় লাগে।
প্রতিনিয়তই মার্কেট পড়ে যাচ্ছে, এই কমিশনের ওপরে কোন অংশীজনের আস্থা ফেরেনি এমন অবস্থায় এসব সংস্কার যারা বাস্তবায়ন করবে তারা যদি ঠিক না থাকে তাহলে এই সংস্কার কি কাজে লাগবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সংস্কার টাস্কফোর্সের সদস্য অধ্যাপক আল আমিন বলেন, আগের যে সরকার ছিল তাদের সঙ্গে নতুন যারা এসেছে তাদের সঙ্গে একটা দ্বন্দ সবখানেই হচ্ছে। আমরা মনে করেছি আমরা যদি প্রথমেই বিএসইসির কাঠামোতে হাত দিলে এখন পর্যন্ত যে তিনটা আউটপুট বের করে আনা হয়েছে তা হয়তো পারতাম না। প্রথমেই যদি আমরা যাদেরকে নিয়ে কাজ করব সেখানে হাত দেই তাহলে ভিতর থেকে যে কাঠামোগত পরিবর্তন আমরা চাচ্ছি সেক্ষেত্রে একটা বাধার সম্মুখীন হতে পারি বলে আমাদের ধারণা ছিল।
উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা যখন মানবসম্পদ বিভাগ, অর্গানোগ্রামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছি তখন দেখা যাচ্ছে একটা রেডি জিনিস চাওয়ার পরেও তারা মোটামোটি বেশ সময় নিচ্ছে। আমরা চেয়েছি বর্তমান অবস্থা কি আছে সেটাকে মূল্যায়ন করে একটা বৈশ্বিক মানে নিয়ে যেতে হলে, এখানে ভালো ক্যারিয়ার পাথ দিতে গেলে কোন কোন লেয়ারে কাজ করতে হবে। সেটা করতে গিয়ে আমরা দেখলাম যে একটা চিঠি পেতে হয়তো এক সপ্তাহ লাগতো কিন্ত তা পেতে এক মাস লাগছে।
অধ্যাপক আল আমিন বলেন, কোন কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে চলে গেলে তো ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিনিয়োগকারী। লভ্যাংশ বিতরণ করতে না পারলে সেটা তো বিনিয়োগকারীদের দোষ না। বোর্ডকে কিভাবে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা যায়, বাজারে সুশাসন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা আমাদের মূল লক্ষ্য।
এখন যারা বিদ্যমান কাঠামোতে কাজ করছে তাদের মধ্যে যে গ্রুপিং নিয়ে নিউজ হচ্ছে এগুলো আমরা সবাই জানি। কিন্তু সেই জায়গাতে যদি আমরা হাত দেই তাহলে এখন যা দেখতে পাচ্ছেন সেগুলোও হয়তো দৃশ্যমান হতো না বলেও জানান টাস্কফোর্সের এই সদস্য।