
“প্রশান্তিময় আবাসনের প্রত্যয়ে” স্লোগানে পথচলা শুরু করা বাংলা সিটি পিএলসি বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে তার প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করেছে।
শনিবার (১৭ মে) সকাল ৮টা থেকে দিনব্যাপী ঐতিহাসিক ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
বাংলা সিটি পিএলসির চেয়ারম্যান ডা. সৈয়দ ইমামুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে ছিলেন-বাংলা সিটি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান বলেন, জমিতে বিনিয়োগ করা সবচেয়ে লাভজনক। তবে জমিজমার মধ্যে সবচেয়ে ভেজাল বেশি হয়। সুতরাং জমিজমা কেনার আগে বিশেষ করে যারা বড় ধরনের প্রজেক্ট করবেন তারা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে একটি অনুমোদন বা ছাড়পত্র নিবেন। নদীর পাড়ে জমি কিনতে গেলে সেখানেও কিছু নিয়ম মানতে হবে। এসব ক্ষেত্রে এস মালিকানা ও আরএস মালিকানা দেখা জরুরী। এসব বিষয় পরিস্কারভাবে না দেখে বা না জেনে জমিজমা কিনলে তাকে নানান হয়রানির স্বীকার হতে হয়। মামলা মোকাদ্দমা চালাতে হয়।
সাবেক এ জনপ্রশাসন সচিব বলেন, আমার বিশ্বাস বাংলাসিটি পিএলসি এমন সমস্যায় পড়বে না। যেহেতু এটা একটি সম্মিলিত প্রয়াস সুতরাং এ বিষয়গুলো বাংলাসিটি পিএলসি লক্ষ্য করবেন।
তিনি আরও বলেন, যে কোন প্রতিষ্ঠান সাফল্য পেতে প্রধান শর্তই হলো সততা । সুতরাং এই সততা যে প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থাকবে তাদের সাফল্য নিশ্চিত। তাদের কখনো পেছন ফিরে তাকাতে হয়না। আর যখন কোন প্রতিষ্ঠানের গুড উইল নষ্ট হয়ে যায় তখন সে আর কখনো সেকেন্ড প্রজেক্ট গড়তে পারেনা। আশা করি বাংলাসিটি এসব বিষয়ে দৃষ্টি রাখবেন।
মাহবুবুর রহমান বলেন, অন্যদিকে দেখাযায় এ ধরনে প্রজেক্ট থেকে গ্রাহকগণ জমি কিনেই পরদিন থেকে জমির খোঁজ নেওয়া শুরু করেন। ভাই আমার জমির কি হলো, আমি কখন বুঝে পাবো? বাড়ি বানাবো কবে ইত্যাদি ইত্যাদি। যা প্রতিষ্ঠানের মালিকের প্রতি এক রকম মেন্টাল টর্চার চলতে থাকে। তাই সকলকে ধৈর্য্য ধরে লগ্নি করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে কোন কাজ করা যাবেনা।
সবশেষে তিনি বাংলাসিটি পিএলসির সাফল্য কামনা করেন।
বাংলাসিটির ব্যবস্থাপরিচালক নুরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, বাংলা সিটি পিএলসিতে যে আসবেন তিনি নিশ্চিত লাভবান হবেন। সুতরাং প্রত্যেকের উচিৎ তার নিজেদের লাভের জন্য, নিরিবিল পরিবেশে শান্তিময় আবাসন গড়তে বাংলাসিটিতে ইনভেস্ট করা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন- মাওলানা ক্বারী খন্দকার শহীদুল হক ও মোস্তফা কামাল তোহা।
রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-১ আসনের অন্তর্গত নবাবগঞ্জে শান্ত ও সম্ভাবনাময় এক অঞ্চলে গড়ে উঠছে এই বিশাল স্যাটেলাইট প্রকল্প- বাংলা সিটি। প্রায় ৮ হাজার বিঘা জমির ওপর নির্মিত, আন্তর্জাতিক মানের এই আবাসিক শহর কেবল একটি হাউজিং প্রকল্প নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনযাত্রার রূপরেখা।
প্রকল্পটিকে সাতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরে থাকছে পরিকল্পিত ব্লক, স্কুল-কলেজ, মসজিদ, হাসপাতাল, নারী-বান্ধব মার্কেট ও কবরস্থানসহ প্রয়োজনীয় সকল নাগরিক সুবিধা। মহাকবি কায়কোবাদের স্মৃতি বিজড়িত ইছামতি নদীর তীরে অবস্থিত এই শহর শুধু বসবাসের ঠিকানা নয় বরং এটি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া একটি আত্মিক সম্পদ।
বাংলা সিটির লক্ষ্য: একটি সুন্দর, নিরাপদ এবং উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা, যা আগামী ১০০ বছর পরেও থাকবে যুগোপযোগী ও নতুনের মতোই।
বিএইচ