
পুঁজিবাজারের উন্নয়নে গত ১১ মে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পাঁচটি নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া এসকল নির্দেশনা বাস্তবায়নে বৈঠক করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার মাকসুদ রাশেদ।
সোমবার (১৯ মে) অর্থমন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসইসি চেয়ারম্যান প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে এর সময়সীমা তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়ে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়সীমা জানায় বিএসইসি।
বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়, যেসকল বিদেশি মালিকানাধীন বা বহুজাতিক কোম্পানিতে সরকারের মালিকানা রয়েছে সেগুলো দ্রুত পুঁজিবাজারে আনতে পারে শিল্প মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে ৩ মাসের মধ্যেই এসব কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করা সম্ভব।
বেসরকারি খাতের ভাল ও বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার জন্য তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে কর হারের ব্যবধান ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা প্রয়োজন। আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব।
বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ দল এনে পুঁজিবাজারের সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও ৩ মাসের মধ্যে সম্ভব। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সর্বোচ্চ ৬ মাস সময় লাগতে পারে।
দেশের বৃহৎ কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের ক্ষেত্রে বন্ড ছেড়ে বা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালা করার জন্য ৬ মাস সময় প্রয়োজন। বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত উদ্যোগে এটা করতে হবে।
পুঁজিবাজারের টানা দরপতনের মধ্যেই গত ১১ মে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, অর্থ উপদেষ্টা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ও বিএসইসির চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।