ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত থানা কমিটি নিয়ে বির্তক তৈরি হয়েছে। অন্তত পাঁচটি থানার র্শীষ পদে পদায়ন করা হয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাদের। গত ৪ জুন ঘোষিত সাত থানা কমিটির মধ্যে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়কের পদ পাওয়া নয়ন হোসেনের বেশকিছু স্থির চিত্র আসে গণমাধ্যমের হাতে। সেখানে তাকে মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন) সভাপতি রিয়াজ মাহমুদসহ ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে একাধিক ছবিতে দেখা যায়। যদিও এই ছবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। দারুসসালাম থানার ঘোষিত ছাত্রদলের কমিটিতে সদস্য সচিব পদ পেয়েছেন ওমর নাঈম। তাঁকে আওয়ামী লীগের একটি নির্বাচনী প্রচারভিযানে অংশ নিতে দেখা গেছে। রূপনগর থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শেখ মেহেদী হাসান এক সময়ে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার অনুসারীর ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাফরুল থানার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের পদ পাওয়া ইমরান গাজীর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ (নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন) সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন একই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পাওয়া একাধিক নেতা। তারা বলেন, “ইমরান আমাদেরকে ছাত্রদল করতে দেয়নি এলাকায়। ছাত্রদলের সাথে সম্পর্ক থাকায় একাধিকবার সে আমাদের ওপর ছাত্রলীগ লেলিয়ে দেয়, বাড়ীতে পুলিশ পাঠায়।এখন পটপরিবর্তন হওয়ায় শুধু টাকা দিয়ে রবিন-আকরামের কাছ থেকে কমিটি নিয়েছে সে। পদ পাওয়ার পর আবারো সেই পুরাতন চেহেরায় ইমরান”।
একই অভিযোগ সাব্বির হোসেন সজিবকে আহ্বায়ক ও তানজিব আল আমিনকে সদস্য সচিব করে ১৬ সদস্যের শাহআলী থানার কমিটি নিয়েও। সেই কমিটির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, ‘যেই তানজিব আল আমিনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে তিনি অনুপ্রবেশকারী, তাঁর পুরো পরিবার আওয়ামী লীগ, সে যুবলীগ নেতা ইমরানের অনুসারী, তার সাথে মিছিল মিটিং করতো, শাহআলীর বিভিন্ন মার্কেট থেকে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের চাঁদা কালেকশনের দায়িত্ব ছিলো তার। ৫ আগষ্টের পর থেকে আমাদের প্রোগ্রামে সক্রিয় হয়। এখন দেখি সে বিরাট নেতা”।
শাহ্আলী থানা নবগঠিত কমিটির আহবায়ক যাকে রাখা হয়েছে "সজিব" তিনি শাহ্আলী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি বিন্দু জাকিরের সাথে বিভিন্ন আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে অংশ গ্রহন করেছেন। ৫ই আগষ্টের পর মিরপুর কাঁচাবাজারে লুটপাট ও দখলবাজির কারণে তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। নতুন কমিটিতে পদায়ন করার জন্য তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে শাহআলী থানা ছাত্রদলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, সজিবের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিম থানা ছাত্রদলের সভাপতি রবিন খান বলেন, “ছাত্রলীগের কাউকেই কমিটি রাখা হয়নি। অভিযোগ মনগড়া। র্দীঘদিন পর কমিটির হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে অনেকেই কাঙ্খিত পদ না পেয়ে হতাশা ব্যক্ত করছে। এটাই কমিটি ঘোষণার পর চিরাচরিত সংস্কৃতি”। ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে জানান, “কমিটিতে থাকা সবাই আমরা র্দীঘদিনের পরিচিত, একসাথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। এই সম্পর্কের বাইরে সবার আলাদা স্কুল-কলেজের বন্ধু সার্কেল থাকে, এলাকার সার্কেল থাকে, এগুলো সামাজিকতা, কিন্তু আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের হয়ে কোন কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছে, সেরকম ছবি থাকলে দেখাক। আমরা অবশ্যই এ্যাকশন নেবো”। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন।
এনজে