স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দুর্নীতি। এটা একেবারে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। এটা যদি কোনো অবস্থায় কনট্রোলে (নিয়ন্ত্রণে) আনতে পারতাম। এজন্য আমি সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই। আপনারা লোকজনকে সচেতন করেন। আপনারা যদি সত্য কথা লেখেন, তাহলে অনেক কিছু ঠিক হয়ে যাবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পুলিশ বাহিনীর সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এজন্য একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আগে বলা হতো জিডি এবং মামলা পুলিশ নিতে চায় না। এজন্য আমরা ইতিমধ্যে মামলা গ্রহণ প্রক্রিয়া অনলাইনে করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এখন জিডি ঘরে বসেই করা যায়। ফলে মামলা করার জন্য এখন আর মানুষকে থানায় যেতে হবেনা, হয়রানি পোহাতে হবে না।
মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) গাছা থানা পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, রিমান্ডে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাচের মতো ঘর করে দিবো।অন্যরাও দেখতে পারবে, আসামিদের সাথে খারাপ আচরণ করা হচ্ছে কিনা। মামলা বানিজ্য বন্ধ করার জন্য অনলাইনে করা হচ্ছে। মামলা বানিজ্যে, দুর্নীতির সাথে জড়িত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা। মিথ্যা সংবাদ হয়, তাহলে দুর্নীতি যারা করে তারা সুবিধা পায়, পাশ্ববর্তী দেশও সুবিধা পায়। পুলিশের কেউ মামলা বাণিজ্যে এবং দুর্নীতির সাথে জড়িত হয় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিভিন্ন পদমর্যাদার ৮৪ জনকে আমরা এটাচ করে রেখেছি। ইতিমধ্যে আমি ৩০-৪০ জনকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। যদি আরো ৩০-৪০ জনকে বাড়ি পাঠাতে হয়, একটুও কুণ্ঠিত হবো না। যদি কোন রকম দুর্নীতির সাথে জড়িত হয়।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা যায় কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনারা জানেন আগে ১০-১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অসংখ্য অজ্ঞাতদেরকে আসামী করে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করতো। এবার হইছে কি? আপনারাই ১০/১৫ জনের নাম দিছেন, ২০০/২৫০ বেনামী লোক আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এজন্য মামলার তদন্ত দেরি হচ্ছে। এসব মামলায় যেমন দোষী লোকজন আছে মোটামুটি নির্দোষ অনেক মানুষও রয়েছে বা থাকতে পারে। এজন্য আমরা দেখবো যারা দোষী তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসবো। যারা নির্দোষ সে যাতে কোনমতে সাজা না পায় সে ব্যবস্থা করা হবে।
এনজে