
জাতীয় সংসদের ১৬১ নম্বর আসন, নেত্রকোণা-৫। পূর্বধলা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে এখনও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা না হলেও, ভোটের মাঠে চলছে চুপিসারে প্রচার-প্রচারণা। এ আসনে ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে তিন জন নেতা সক্রিয় হলেও, তরুণ ভোটারদের হৃদয়ে ও মাঠের তৃণমূল সংগঠনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সোহেল।
তারেক রহমানের আস্থাভাজন, কর্মীবান্ধব নেতা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সোহেল শুধু দলের দায়িত্বশীল নেতাই নন, তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। রাজনীতির মাঠে তার উত্থান ছাত্রদল থেকে শুরু। তিনি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
তরুণ বয়সেই সংগঠনচর্চা, নেতৃত্বগুণ, এবং কৌশলী সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে দলে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছেন। বর্তমানে তিনি পূর্বধলার প্রতিটি ইউনিয়নে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলছেন। তার কর্মীবান্ধব আচরণ, সহজ যোগাযোগব্যবস্থা এবং নিয়মিত উপস্থিতিই তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। উপমহাদেশীয় রাজনীতির ধারায় পারিবারিক গৌরব রাজনৈতিকভাবে মেহেদী হাসান কোনো নবাগত নন।
তিনি পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সিনিয়র আহ্বায়ক কিউ জেড এম রাহুল কুদ্দুসের সুযোগ্য সন্তান। রাজনীতির এই পারিবারিক উত্তরাধিকার তাকে আরও দায়িত্বশীল এবং সচেতন করে তুলেছে। তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য ও শুদ্ধ রাজনৈতিক চর্চা তাকে নেত্রকোণা-৫ এর ভোটারদের কাছে একজন ভরসার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জনসংযোগ ও জনগণের হৃদয়ে অবস্থান মেহেদী হাসান সোহেল শুধু দলীয় অনুষ্ঠানে নয়, নানা সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমেও ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। রমজান মাসজুড়ে দোয়া মাহফিল, ইফতার বিতরণ, ঈদ উপহার, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা কর্মসূচি এবং ঈদ পুনর্মিলনীর মতো আয়োজনে তার উপস্থিতি স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেছেন।
তিনি তরুণদের মাঝে স্বপ্ন দেখান, প্রবীণদের কাছ থেকে নীতিনৈতিকতার শিক্ষা নেন এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে কর্মীদের সম্মান দিয়ে পাশে রাখেন। এ কারণে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ পর্যন্ত সবার মুখে এখন একটি নাম— মেহেদী হাসান সোহেল।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সম্মুখসারির সৈনিক ২০২৪ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সরব ও সম্মুখসারির নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মেহেদী হাসান সোহেল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যেও তিনি তার এলাকাভিত্তিক কর্মসূচি চালিয়ে গেছেন, তৃণমূলকে সংগঠিত করেছেন এবং নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রেখেছেন। তার সাহসিকতা, নেতৃত্বদক্ষতা এবং সংগঠনী নৈপুণ্য তাকে আজ নেত্রকোণা-৫ এর বিএনপির অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
যদিও এখনো মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়নি, তবুও মেহেদী হাসান সোহেলসহ অন্য দুই প্রার্থী—এডভোকেট আবু তাহের তালুকদার ও এ.এস.এম শহীদুল্লাহ ইমরান— দলীয় সিদ্ধান্তে একমত। তারা সবাই জানিয়েছেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। তবে মাঠের চিত্র বলছে, জনপ্রিয়তা ও কার্যকারিতার বিচারে মেহেদী হাসান সোহেল এবার ধানের শীষের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হয়ে উঠেছেন।
নেত্রকোণা-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সোহেল এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম। তরুণ নেতৃত্ব, অভিজ্ঞ সংগঠক, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে তিনি এ আসনে ধানের শীষের প্রতীক পেলে তা বিএনপির জন্য বড় সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে— এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এম জি