কর্মসংস্থান হুমকির মুখে সাড়ে ৩ হাজার মানুষের
বন্ধ হলো অগ্রণী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম, এজেন্ট ও গ্রাহকদের বিক্ষোভ
সানবিডি২৪ প্রকাশ: ২০২৫-০৬-২৩ ০০:৪৩:৫৩

অগ্রণী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মাস্টার এজেন্ট এবং সাপোর্ট সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে অগ্রণী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে দুয়ার সার্ভিসেস পিএলসি। কিন্তু অগ্রণী ব্যাংক ও দুয়ার সার্ভিসেস পিএলসি’র মধ্যে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বন্ধ করা হয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম।
এদিকে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ করেছেন ব্যাংকটির এজেন্ট আউটলেটের উদ্যোক্তা ও গ্রাহকরা। রবিবার (২২ জুন ২০২৫) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
বিক্ষোভে এজেন্ট আউটলেট সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা অংশ নেন। তারা বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং বন্ধের ফলে ৩,৫০০ জনের বেশি কর্মসংস্থান হুমকির মুখে, যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। এতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে দেশের অগ্রগতি হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।
ব্যাংকটির পাবনা জেলার একজন এজেন্ট বাবু হোসেন বলেন, এই আউটলেট গড়তে আমি সব কিছু বিনিয়োগ করেছি। যদি ব্যাংক এরকম হঠাৎ এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়, আমি পরের মাসেই দেউলিয়া হয়ে যাবো।
এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ হলে গ্রাহকদের আমানত এবং হয়রানি ও অতিরিক্ত খরচ বাড়বে বলেও জানান তারা। মাদারীপুরের স্বপ্না বেগম বলেন, আমার একাউন্টে ৪২,০০০ টাকার রেমিট্যান্স এসেছে , এজেন্ট পয়েন্টে সেই টাকা তুলতে পারিনি। আমার চেকবই না থাকায় সদরে ব্যাংকের ব্রাঞ্চে গিয়েও টাকা তুলতে পারিনি। অথচ আমি বাড়ির কাছের এজেন্ট পয়েন্টে শুধুমাত্র আমার ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়েই নিরাপদে টাকা তুলতে পারতাম কোন ঝামেলা ছাড়া।
তারা জানান, এজেন্ট পয়েন্টে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) দিয়ে গ্রাহক যাচাই হতো, যা শহরের শাখায় গিয়ে সম্ভব নয়। এতে ভুয়া স্বাক্ষর, হয়রানি ও অতিরিক্ত খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি পরিপত্রে নারীদের এজেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। তবে অগ্রণী-দুয়ার মডেলের এই এজেন্ট ব্যবসায় নারীরা অনেক নারীই ব্যবসা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
ঢাকার এজেন্ট নীলা তাবাসসুম বলেন, আমি বুটিকের কাজ ছেড়ে অগ্রণী দুয়ার ব্যাংকিং-এর এজেন্ট হয়েছিলাম। এখন আমি আবার শূন্যতে চলে আসবো, যদি ব্যাংক তার এই হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১শে জুন মাস্টার এজেন্ট ও সাপোর্ট সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে দুয়ার সার্ভিসেস পিএলসি’র সাথে ৩ বছরের চুক্তি করে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি। গত ২০ জুন এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। গত ১৯ জুন ব্যাংকটির সকল শাখায় চিঠি দিয়ে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
তবে গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখতে শাখা কর্তৃক এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রাহকদের সার্বিক সহযোগীতা অব্যাহত রাখতে নির্দেশ দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রাহকদের এসএস কার্ড আপডেট সহ চেক প্রদানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দুয়ার বা অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো যৌথ বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ১৮ মে, ২৪ মে ও ৪ জুন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে উভয় উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। অগ্রণী ব্যাংক থেকে চুক্তির একটি খসড়া দুয়ার সার্ভিসেস পিএলসির নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন ব্যাংকটির গ্রাহক ও উদ্যেক্তা এজেন্টরা। পর্যায়ক্রমিক ট্রানজিশন, সঠিক অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া, ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার দাবিও জানান তারা।







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













