
দেশের অন্যান্য ব্যাংকের মতো রাষ্ট্র মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংকেরও আমানত বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটি সূচকে অগ্রগতি হয়েছে। গত ৬ মাসে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একটা বৃহৎ অংশকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে পেরেছে ব্যাংকটি। ফলে ব্যাংকটির নতুন হিসাব বেড়েছে প্রায় তিন লাখ। আমানত বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এতে মোট আমানত ৭৮ হাজার কোটি টাকার মাইলফলকে পৌঁছেছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন আকর্ষনীয় স্কিমের মাধ্যমে গ্রাহকদের আকর্ষণের চেষ্টা করছে ব্যাংকটি। এ লক্ষ্যে রূপালী আস্থা, রূপালী শ্রদ্ধা ও রূপালী ডাবল বেনিফিট স্কিম নামে তিনটি আকর্ষনীয় স্কীম চালু করা হয়। পাশাপাশি উত্তম সেবার নিশ্চয়তা দিয়ে সারাদেশে শাখা ও উপশাখা নিয়ে গড়ে তুলেছে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। ফলে ক্রমশই জনপ্রিয় হচ্ছে রূপালী ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা।
জানা যায়, আর্থিক খাতে নিজেদের টেকসই অবস্থান নিশ্চিতকরণে খেলাপি ঋণ আদায়, নতুন হিসাব খোলা, সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তাই নানা প্রতিকূলতার মাঝেও ভারসাম্য রক্ষা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
গত ৬ মাসে ব্যাংকটির নতুন হিসাব খোলার সংখ্যা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৫৩ বছরে ব্যাংকটির সক্রিয় একাউন্ট ছিল ৩০ লাখ। সেখানে ছয় মাসে নতুন একাউন্ট যুক্ত হয়েছে ৩ লাখ। গত ছয় মাসে আমানত ৬৮ হাজার কোটি টাকা থেকে ৭৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ফলে ৩৩ লাখ গ্রাহকের রূপালী ব্যাংক জাতীয় সঞ্চয়ের বড় অংশীদারে পরিণত হয়েছে। সাফল্যের এই চিত্রে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থার প্রমাণ পাওয়া যায়।
ব্যাংকটির চলমান এই অগ্রগতির পেছনে কর্মীদের নিষ্ঠা ও আনুগত্যের পাশাপাশি পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দক্ষ নেতৃত্বের কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নজরুল হুদা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ব্যাংকের একটি শক্তিশালী সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম ব্যাংকটিকে প্রতিটি আর্থিক সূচকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
দেশীয় ও বৈশ্বিক নানামূখী অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মাঝেও ব্যাংকটির এই সাফল্য ঈর্ষণীয়। ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকটির পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সময়পোযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহনের ফলে ব্যাংকের আমানত বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সূচকে অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে।
বিএইচ