

এক বছরের ব্যবধানে দেশে শরীয়াহ ভিত্তিক পরিচালিত ১০টি ব্যাংকের আমানতে ধস নেমেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি-মার্চের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ কোয়ার্টার শেষে ১০টি ইসলামী ব্যাংকের আমানত কমেছে ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। আর তিন মাসের ব্যবধানে অর্থাৎ গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ কোয়ার্টারে ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে আমদানি কমেছে শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং প্রবাসী আয় কমেছে ১৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ। তবে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রপ্তানি আয় বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং তিন মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাস অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ কোয়ার্টার শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শরীয়াত ভিত্তিক ১০টি ব্যাংকের আমানত কমেছে ১২ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা বা ৩ দশমিক ১০ শতাংশ।
এছাড়া, তিন মাসের হিসাবেও কমেছে ব্যাংকগুলোর আমানত। গত বছরের ডিসেম্বর কোয়ার্টার শেষে শরীয়াহ ভিত্তিক ১০টি ব্যাংকের আমানত ছিল ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ কোয়ার্টার শেষে ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি দাাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে ১ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা বা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ কোয়ার্টারে শরীয়াহ ভিত্তিক ১০টি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৭ হাজার ১৭ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ২১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় কম এসেছে ৫ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা বা ১৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
তবে তিন মাসের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর কোয়ার্টারে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৮ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ কোয়ার্টারে এসেছে ২১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩ হাজার ৩০১ কোটি টাকা বা ১৭ দশমিক ৯০ শতাংশ।
তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ কোয়ার্টারে শরীয়াহ ভিত্তিক ১০টি ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়েছিল ৪৫ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আমদানি বিল পরিশোধ হয়েছে ৪৫ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। সেই এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর আমদানি বিল পরিশোধ কমেছে ৪০০ কোটি টাকা বা শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ। তবে তিন মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আমদানি বিল পরিশোধ বেড়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর কোয়ার্টারে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়েছিল ৩৬ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ কোয়ার্টারে ব্যাংকগুলো আমদানি বিল পরিশোধ করেছে ৪৫ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে আমদানি বিল পরিশোধ বেড়েছে ৮ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা ২৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরীয়াহ ভিত্তিক ১০টি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আসা রপ্তানি আয় বেড়েছে। গত বছরের মার্চ কোয়ার্টারে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রপ্তানি আয় এসেছিল ২৯ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রপ্তানি আয় এসেছে ৩২ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা বা ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এছাড়া তিন মাসের ব্যবধানেও বেড়েছে রপ্তানি আয়। গত বছরের ডিসেম্বর কোয়ার্টারে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রপ্তানি আয় এসেছিল ২৮ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ কোয়ার্টারে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রপ্তানি আয় এসেছে ৩২ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে ব্যাংকগুলোর রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা বা ১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
এএ