

বর্তমানে পুঁজিবাজারের মাঠ খেলার জন্য পুরো প্রস্তুত। যারা বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য ভালো ফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আশুলিয়ার ব্র্যাক সিডিএম-এ শুক্রবার (৪ জুলাই) সাংবাদিকদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী আবাসিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বিএসইসির কমিশনার এম. আলী আকবর।
তিনি বলেন, আপনারা কোন ধরনের মাঠ চান আমরা জানি না। আমরা চাই বিনিয়োগকারীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন। আর পুঁজিবাজারও যেন উন্নতি করে। আমরা চাই মার্কেট ভালো হোক। তাঁর এই ব্যক্তব্যের উত্তাপ যেন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। সোমবারের লেনদেন শেষে দেশের উভয় পুঁজিবাজারে দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখিতা। এদিন ডিএসইতে বেশিরভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। সিএসইতে বেশিরভাগ শেয়াররের দর বৃদ্ধি পেলেও গত কার্যদিবসের চেয়ে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৬টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ২৭৮টি কোম্পানির, বিপরীতে ৭৩ কোম্পানির দর কমেছে। পাশাপাশি ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিন ডিএসইর সবকটি সূচকের বড় উত্থান ঘটেছে।
অবশ্য গত কয়েক সপ্তাহ থেকেই পুঁজিবাজারে উত্থান দেখা যাচ্ছে। গত সপ্তাহের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৬১ দশমিক ২৪ পয়েন্ট বা এক দশমিক ২৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৭৮ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৬৫ শতাংশ। তারও আগের দুই সপ্তাহে বাড়ে ৪৫ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ৭১ দশমিক ১৭ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৫৩ শতাংশ।
গত এক মাসের মধ্যে এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ মূল্যসূচক বেড়েছে ৭৮ দশমিক ৪২ পয়েন্ট। আর সোমবারের লেনদেন শেষে আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে ৮২ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অর্থাৎ গত এক মাসে প্রতি সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচক যত বেড়েছে সোমবারের একদিনের লেনদেনে মূল্যসূচক তার চেয়ে বেশি বেড়েছে। বর্তমানে সূচকটির অবস্থান ৫ হাজার ৯৭৬ পয়েন্টে।
অন্যান্য মূল্যসূচকের মধ্যে ডিএসইএস ১৫ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট বেড়ে ১০৮১ পয়েন্ট এবং ডিএস-৩০ সূচক ৩৬ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৮৭৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের গতিও বেড়েছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা। তার আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৩৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আর সোমবার ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৭৩ কোটি ৪৬ লাখ। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিলো ৫০৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
দেশের অপর পুঁজিবাজার সিএসইতে সোমবার লেনদেন হওয়া ২২৮ টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ১৫৪ টির। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৭ টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৭ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম। সিএসইতে এদিন ৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এদিন সার্বিক মূল্যসূচক বেড়েছে ১৮৪ দশমিক ১৫। এতে সার্বিক মূল্যসূচক দাঁড়ায় ১৩৮১২ পয়েন্ট।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর দ্বায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারে পাশাপাশি পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র নেতৃত্বেও আসে পরিবর্তন। তবে নতুন নেতৃত্ব দ্বায়িত্ব গ্রহণের পরও পুঁজিবাজারে কাঙ্খিত উন্নতি দেখা যায়নি। গত ৯ মাসে কখনই ধারাবাহিক উত্থান দেখা যায়নি। তবে গত কয়েক সপ্তাহে ঊর্ধ্বমুখি প্রবণতায় আশান্বিত বাজার সংশ্লিষ্টরা।
অংশীজনরা বলছেন, সামনে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজার ওঠানামার মধ্যেই থাকবে। একেবারে ধারাবাহিকভাবে উঠতে থাকবে এমন হবে না হওয়া ঠিকও নয়। কিন্তু মোটামুটি মনে হচ্ছে যে কিছুটা আস্থা ফিরে এসেছে।
এর কারণ দুটো। প্রথমত, আমাদের এখানে নির্বাচনের সময় বা নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা হয়ে গেছে। এখন মোটামুটিভাবে আমরা নির্বাচনের দিকে হাঁটছি। এটাই বাজারে আস্থা বাড়ার মূল করন।
দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক সময়ে এনবিআরসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। যেমন, অগ্রিম আয়কর নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এসেছে, অনেকদিন ধরে ঝুলে থাকা সমন্বিত গ্রাহক হিসাব বা সিসিএ নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত তারপরে আইপিও রুলস রেগুলেশনস পরিবর্তন হচ্ছে। এসব কারনেই বাজারে কনফিডেন্স ফিরে এসেছে।
বাংলাদেশ ক্যাপিট্যাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমআইএ) সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, আমাদের বিশ্বাস সামনে বাজার খারাপ হওয়ার সুযোগটা কমে গেছে। যেমন ভালো একটা শেয়ারের দাম ছিল ৫৫ বা ৬০ টাকা। এই শেয়ারের দাম ৬ টাকায় নেমে এসেছে। এর থেকে আর কি কমতে পারে?
শেয়ারবাজারের যদিও তলা নাই তবুও এর নিচে আর কি পড়তে পারে? একেবারে তলানিতে এসে গেছে শেয়ারবাজার। বাজারের এখন যা অবস্থা তাতে যে কেউ বিনিয়োগ করলেই পয়সা ফেরত পাবে। যারা বাজার সংশ্লিষ্ট তারা বুঝে যে এইখানে বিনিয়োগ করলে লস হওয়ার সুযোগ কম। সেইসাথে নির্বাচনের তারিখ ঘোষনায় একটা প্রভাব থাকতে পারে।