

বিমা খাতের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক অনিয়ম ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধি লঙ্ঘনের তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদে অদাবিকৃত লভ্যাংশ হস্তান্তর না করা, গ্রাচুইটি ফান্ডের বিপরীতে প্রভিশন না রাখা এবং অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করার মতো গুরুতর অসংগতি দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনে।
৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে সমাপ্ত আর্থিক প্রতিবেদনে এসব অসঙ্গতি পেয়েছে নিরীক্ষক।
বিএসইসি নির্দেশনার অমান্য করে অদাবিকৃত লভ্যাংশ সংরক্ষণ:
বিএসইসির ২০২১ সালের ১৪ জানুয়ারিতে এক নির্দেশনায় বলা হয়, নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন অথবা রেকর্ড ডেট থেকে তিন বছর পর্যন্ত অদাবিকৃত থাকলে, তা নির্ধারিত ফান্ডে জমা করতে হবে। কিন্তু ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের ২০২৩ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়ের ৫৪ লাখ ১২ হাজার টাকার লভ্যাংশসহ সর্বমোট ৯২ লাখ ৮৪৯ টাকা অদাবিকৃত লভ্যাংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের খাতেই সংরক্ষণ করে রেখেছে, যা বিএসইসির নির্দেশনার লঙ্ঘন।
গ্রাচুইটি ফান্ডে প্রভিশন না রাখা:
প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি বড় অনিয়ম দেখা যায় গ্রাচুইটি ফান্ড সংক্রান্ত প্রভিশন সংরক্ষণে। রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এককালীন ৬৭ লাখ টাকা গ্রাচুইটি ফান্ডের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ করলেও, ২০১৯ সাল থেকে পরবর্তী বছরগুলোতে সে অনুযায়ী কোনও প্রভিশন রাখা হয়নি। যা কোম্পানির ভবিষ্যৎ দায় ও হিসাব সচ্ছতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সীমা অতিক্রম:
ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগও উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের নির্ধারিত সীমা ১১ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা হলেও, বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটি ১৪ কোটি ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। অর্থাৎ অনুমোদিত সীমার চেয়ে ২ কোটি ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বেশি ব্যয় করা হয়েছে। এমতাবস্থায় বিষয়টি শুধু বিধি লঙ্ঘন নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের অর্থ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বিএইচ