এজেন্ট ব্যাংকিং

আমানত বাড়লেও কমেছে এজেন্ট ও আউটলেটের সংখ্যা

আপডেট: ২০২৫-০৮-১৩ ২১:৫০:৫৩


  • আমানত বেড়েছে ২৬৪১ কোটি টাকা
  • এজেন্টের সংখ্যা কমেছে ৪৬৫টি
  • আউটলেটের সংখ্যা কমেছে ৪৬৬টি

দেশে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং। ব্যাংকের সাথে লেনদেন তথা টাকা জমা দেয়া ও উত্তোলন করার জন্য সাধারণ মানুষকে এখন আর জেলা কিংবা উপজেলা শহরে যেতে হয় না। হাতের নাগালেই পাচ্ছে ব্যাংকিং সুবিধা। সহজেই ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে ও উত্তোলন করতে পারছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের এজেন্ট ও আউটলেট থেকে ঋণ সুবিধাও পাচ্ছে। তবে চলতি বছরের জুন প্রান্তিকে এজেন্ট ও আউটলেটের সংখ্যা কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মোট হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪৬ লাখ ৭১ হাজার ৪২২টি। আর তিন মাস পর অর্থাৎ জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মোট হিসাবধারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬ হাজার ২৩৬টি। সেই হিসাবে তিন মাসে হিসাব কমেছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ১৮৬টি।

প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিয়ে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪২ হাজার ৯৬৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আর ২০২৫ সালের জুন শেষে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৬০৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে এজেন্ট ব্যাংকিয়ে আমানত বেড়েছে ২ হাজার ৬৪১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ব্যাংকের সাথে লেনদেন সহজ করতেই মূলত এজেন্ট ব্যাংকিং চালু হয়েছে। এটা এখন সারাদেশে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ সাধারণ মানুষ হাতের কাছে ব্যাংকের সাথে লেনদেন করতে পারছেন। এমনকি সাধারণ মানুষ এখন এসব এজেন্ট ব্যাংকিং থেকে ঋণও নিতে পারছে।

প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ঋণ বিতরণের স্থিতি ছিল ২৬ হাজার ৬৩৭কোটি টাকা। আর চলতি বছরের জুন শেষে ঋণ বিতরণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে ঋণ বিতরণের স্থিতি বেড়েছে ২ হাজার ৩৭০ কোটি ১১ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসী আয় আসার স্থিতি ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। আর জুন শেষে প্রবাসী আয় আসার স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে প্রবাসী আয় আসা বেড়েছে ২ হাজার ৬৮৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন বলছে, এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রাহকের বড় অংশই গ্রামের মানুষ। এ সময়ে গ্রামে গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭৬ লাখ ৪ হাজার ৩১১ জন।

এছাড়া, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্টধারীদের মধ্যে নারী গ্রাহকের সংখ্যা এখন ১ কোটি ২০ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬৬ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে এজেন্টের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৮৩৮টি। আর জুন শেষে এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৭৩টি। সেই হিসাবে তিন মাসে এজেন্টের সংখ্যা কমেছে ৪৬৫ টি।

এছাড়া, মার্চ শেষে আউটলেটের সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ২৩টি। আর জুন শেষে আউটলেটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৫৭ টি। সে হিসেবে তিন মাসে আউটলেটের সংখ্যা কমেছে ৪৬৬টি।

এএ