বড় ধরণের ক্ষতিপূরণ চেয়ে গার্ডিয়ান লাইফের সিইওসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-০৮-২১ ১৮:৩৪:১১

বড় ধরণের ক্ষতিপূরণ চেয়ে গার্ডিয়ান লাইফের সিইওসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। কোম্পানির সাবেক কর্মকর্তা ছিদ্দিকুর রহমান প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শেখ রাকিবুল করিমসহ একাধিক কর্মকর্তাকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। নোটিশে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতেও বলা হয়েছে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) ছিদ্দিকুর রহমানের পক্ষে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এস. এম. দেলোয়ার হোসেন মন্টু কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে (পুলিশ প্লাজা, গুলশান, ঢাকা) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠিয়েছেন।
তবে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশকে বিভ্রান্তিকর ও কোম্পানির সুনাম ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করা হয় কোম্পানির পক্ষ থেকে। গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এই লিগ্যাল নোটিশের দাবিকৃত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। এদিকে স্কয়ার, ব্র্যাক ও এপেক্স গ্রুপসহ একাধিক কোম্পানি শেয়ার মালিকায় রয়েছে গার্ডিায়ন লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড বলে জানা যায়।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, ছিদ্দিকুর রহমান গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সে এরিয়া ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করেছে। ২০১৯ সালে গার্ডিয়ান লাইফে যোগদান করার পর থেকে কোম্পানির সিইও রাকিবুল হাসান, এএমডি মাহমুদুর রহমান খান, ভিপি আলমগীর হোসেন, এসভিপি আনোয়ার হোসেন, এসভিপি জাফর আহমেদ, ডিআরএম শাহিদুল ইসলাম শান্ত, ব্রাঞ্চ সার্ভিস শামিম হোসেন, কাওছার হোসেন প্রমুখ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন বলে দাবি করা হয়। তার ফলে ছিদ্দিকুর রহমানের ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়। এই টাকা নোটিশ এর পর ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে।
তবে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ২০২৩ সাল থেকে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের একাধিক লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোম্পানির সাবেক কর্মকর্তা ছিদ্দিকুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। ২০২৩ সালে তদন্তের ভিত্তিতে তার ব্যবসায়িক কোড বন্ধ করা হয়। একই বছরের ২৭ ডিসেম্বর মাসে গ্রাহকের টাকা পরিশোধের অঙ্গীকারনামা দেওয়ার শর্তে তিনি সাময়িকভাবে কাজে যোগদান করলেও, পরবর্তীতে গ্রাহকের টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হন।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ছিদ্দিকুর রহমান গার্ডিয়ান লাইফে এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করা কালে কোম্পানির একাধিক কর্মকর্তা অসৎ উদ্দেশ্যে তাকে হয়রানি, আর্থিক ক্ষতি এবং অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করেন। এতে তার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
তবে ছিদ্দিকুর রহমানের দাবি প্রত্যাখ্যান করে গার্ডিয়ান লাইফ বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকারনামা ভঙ্গ করার অপরাধে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি পুনরায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ক্ষমা চাইলেও ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে আবারও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকুরি থেকে অভ্যহতি দেয়া হয়। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতির পর থেকে ছিদ্দিকুর রহমান প্রতিষ্ঠানের নামে ষড়যন্ত্র করতে শুরু করেন।
পরবর্তীতে, চলতি বছরের ২৯ জুলাই গার্ডিয়ান লাইফ তার গ্রাহকের টাকা ফেরতের দাবিতে ছিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে লিগ্যাল ডিমান্ড নোটিশ প্রদান করে। যা সে আমলে না নিয়ে, ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অসৎ উদ্দেশ্য উকিল নোটিশ পাঠায়। যা বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে কোম্পানির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে বলে গার্ডিয়ান লইফ ইন্স্যুরেন্স মনে করে।
এদিকে ছিদ্দিকুর রহমানের উকিল নোটিশে আরো বলা হয়, চাকরির সময় পরিকল্পিতভাবে কর্মকর্তাদের বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তার বেতন, বোনাস, টিএ-ডিএ, ভ্রমণ প্যাকেজ ও ইনসেন্টিভ বাবদ আরও ৫ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। বিভিন্ন ভাবে আরও এক কোটি টাকার বেশি আটকে রাখা হয়েছে। আরো দাবি করা হয়, চলতি বছরের ৩রা ফেব্রুয়ারি কিছু কর্মকর্তা জোরপূর্বক তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেন। এই বিষয়ে সে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে দাবি করেন।
ছিদ্দিকুর রহমানের অভিযোগ থেকে জানা যায়, অবৈধভাবে তাকে চাকরিচ্যুত করায় তিনি সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং দীর্ঘদিনের বীমা খাতে তার সুনাম নষ্ট হয়েছে। ছিদ্দিকুরের দাবি, কোম্পানির ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তার এভাবে ৩ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। নোটিশে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড দাবি করেছেন, তারা সর্বদা শ্রম আইন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধি এবং কর্পোরেট গভর্নেন্স নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। কোম্পানির সুনাম ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে এবং গ্রাহকের আত্মসাতকৃত টাকা পরিশোধের গড়িমসি করতে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হয়, যা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবিলা করা হবে বলে জানান।
উকিল নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শেখ রাকিবুল করিম বলেন, “গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর পক্ষে লিখিত ভাবে বাণিজ্য প্রতিদিনকে জানানো হবে। পরে তিনি কোম্পানির পক্ষে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ছিদ্দিকুর রহমান প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের অর্থ লুটপাট করার তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সে প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের আত্মসাতকৃত অর্থ ফেরত থেকে বাচতে উদ্দেশ্যে মূলকভাবে এই উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে। আমরা তা আইনি ভাবে মোকাবেলা করবো।
ছিদ্দিকুর রহমানের পক্ষের উকিল অ্যাডভোকেট এস. এম. দেলোয়ার হোসেন মন্টু বলেন, “ছিদ্দিকুর রহমানের পক্ষে গার্ডিয়ান লাইফকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি। কোম্পানি বিধিমতো ব্যবস্থা না নিলে আইন অনুযায়ী আগাবো।”
এদিকে, নোটিশের অনুলিপি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এবং লাইফ বীমা বিভাগের সদস্যের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বিএইচ







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











