
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জশনে জুলুসের গাড়ি ভাংচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ব্যাপক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাটহাজারী এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন স্বাক্ষরিত এক আদেশে বিষয়টি জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জনসাধারণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে হাটহাজারী উপজেলার মীরের হাট থেকে এগারো মাইল সাবস্টেশন পর্যন্ত এবং উপজেলা গেইট থেকে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, হাটহাজারী পর্যন্ত রাস্তার উভয়পার্শ্বে এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় ৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা থেকে রবিবার ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর আওতায় ১৪৪ ধারা জারি করা হলো।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়ক অবরোধ করে রেখেছে দারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে আরিয়ান ইব্রাহিম নামে এক যুবক নিজের ফেসবুক পেজে উসকানিমূলক পোস্ট দিলে উত্তেজনা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জশনে জুলুস থেকে ফেরার পথে ফটিকছড়ি পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের শফিকিয়া দরবার শরীফ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনার পর আরিয়ান ইব্রাহীম (২০) নামে ওই যুবক ফেসবুকে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় দুঃখপ্রকাশ করে ক্ষমা চাইলেও এ ঘটনায় হাটহাজারীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ জানায়, দুপুরে চট্টগ্রামের জশনে জুলুসে যাওয়ার পথে হাটহাজারী মাদ্রাসার সামনে দাঁড়িয়ে অশালীন ভঙ্গি করে ছবি তোলে আরিয়ান। পরে সেটি ফেসবুকে পোস্ট করলে মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর কওমী অঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়।
আরিয়ানের ফেসবুক আইডিতে নিজেকে ফটিকছড়ি পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি পরিচয় দেওয়া ছিলো। তবে সংগঠনটির সভাপতি একরাম উল্লাহ চৌধুরী জানান, তিনি ছাত্রদলের কেউ নন। বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সংগঠনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রশাসনকে আইনগত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী তারেক আজিজ।
এদিকে, ঘটনার পর হাটহাজারী মাদ্রাসা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদের শান্ত থাকতে আহ্বান জানায়। তবে কওমী অঙ্গনের একাংশ হাটহাজারী বাসস্টেশন এলাকায় অবরোধ করে কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এলাকাবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
বিএইচ