এসআইবিএল’র সাবেক পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর
যত টাকা লাগে দিতে হবে, ব্যবসা করে ফেরত দেব
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-০৯-০৮ ১৫:৩৮:৩৪

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি (এসআইবিএল)-কে কতিপয় রুগ্ন ইসলামী ব্যাংকের সাথে একীভূত করার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে সংবাদ সম্মেলন করেছে উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের একটি অংশ। এসময় ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ডা. মো জাহাঙ্গীর বলেন ‘সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক পরিচালনায় যত টাকা লাগে বাংলাদেশ ব্যাংককে দিতে হবে। আমরা ব্যবসা করে পরে ফেরত দেব। ‘
সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মেজর (অব.) এম রেজাউল হক বলেন, মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে এই ব্যাংক দখল করা হয়েছিলো। এখন আবার সরকারি খাতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের অপরাধ কি। কোনোভাবেই আমাদের ব্যাংক নিয়ে নেওয়া যাবে না। আমরা আদালতে রিট করেছি, সেই রিটের নিস্পত্তি করে আসতে হবে। অন্যদের হাতে দেওয়া যাবে না।
ব্যাংকটির উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীরা ব্যাংক চালাতে না পারলে, অন্যরা পারবে কিভাবে। আমরাই এই ব্যাংক চালাবো। তিনি বলেন, এটা আমাদের সম্পদ। সরকার কি একজনের বাড়ি, ঘর নিয়ে নিতে পারে?
সাবেক পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, অনেক কষ্ট করে আমরা এই ব্যাংক করেছি। প্রবাস থেকে দেশে অর্থ এনে এটা প্রতিষ্ঠা করেছি। এখন সরকারিকরণ করা হবে কেন।
উল্লেখ্য, শরীয়াহ ভিত্তিক পরিচালিত দুর্দশাগ্রস্ত সোশ্যাল ইসলামী, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে একটি বড় ইসলামী ব্যাংক করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একীভূতকরণ উদ্যোগে এরই মধ্যে সাই দিয়েছে সরকার। এজন্য প্রাথমিকভাবে দরকার হবে ৩৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। যার মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আর ৭ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হবে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে। বাকি ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে।
বক্তারা আরও বলেন, “এসআইবিএলকে জোরপূর্বক একীভূত না করে প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের হাতে ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব দিলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।”
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসআইবিএল শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে ছিল এবং নিয়মিতভাবে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করেছে। কিন্তু ২০১৭ সালে এস. আলম গ্রুপ কর্তৃক দখলের পর থেকে ব্যাংকটির সংকট শুরু হয়। বক্তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোক্তা পরিচালকদের পাশ কাটিয়ে অনভিজ্ঞ স্বতন্ত্র পরিচালক দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে, যা ব্যাংকের পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়।
তারা বলেন, প্রকৃত উদ্যোক্তা পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের বাদ দিয়ে গঠিত পর্ষদে গ্রাহকের আস্থা কমে যাওয়ায় ব্যাংকে আমানত হ্রাস পেয়েছে। নতুন পর্ষদের হাতে ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে না পারায় এখন একীভূত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যা গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উদ্যোক্তারা আশ্বাস দেন, “যদি ব্যাংকটির দায়িত্ব প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় খেলাপি ঋণ আদায়, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ ও গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।” তারা আরও জানান, দেশীয় ও বিদেশী একাধিক বড় বিনিয়োগকারী এসআইবিএলে বিনিয়োগে আগ্রহী।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী এসআইবিএলের পূর্ববর্তী পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট নতুনভাবে পাঁচজন পরিচালক/স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে “আমানতকারী ও ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা, সুশাসন নিশ্চিত ও জনস্বার্থে।”
উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানান, রুগ্ন ব্যাংকের সাথে একীভূত না করে আলোচনার মাধ্যমে উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের হাতে ব্যাংকের দায়িত্ব হস্তান্তর করে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে।
বিএইচ







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













