

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের ব্যাংক খাত। এর মধ্যে ইসলামী ধারার কয়েকটি ব্যাংক একেবারে ধসে পড়েছে। চরম তারল্য সংকটের কারণে সরকার এখন ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা ভাল থাকায় গত মে মাসের তুলনায় জুন মাসে ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ২ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে এক বছরের ব্যবধানে শরীয়াহ ভিত্তিক পরিচালিত ১০টি ব্যাংকের আমানত কমেছে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি বছরের মে মাস শেষে শরীয়াহ ভিত্তিক ১০টি ব্যাংকের আমানত ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা। আর পরের মাস জুন শেষে ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি দাড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক মাসে ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ৮ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ১৮ শতাংশ।
এছাড়া, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি দাড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯ কোটি টাকা। আর গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শরীয়াহ ভিত্তিক ১০টি ব্যাংকের আমানত কমেছে ৪ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ২৫ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে শরীয়াহ ভিত্তিক ১০টি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছিল ৬৬ কোটি ডলার। আর চলতি বছরের জুন মাসে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৬১ কোটি ডলার।
সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় কম এসেছে ৫ কোটি ডলার বা ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ।
তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আমদানি বিল পরিশোধ হয়েছিল ১১১ কোটি ডলার। আর পরের মাস জুনে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৮৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর আমদানি বিল পরিশোধ কমেছে ২৩ কোটি ডলার বা২০ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরীয়াহ ভিত্তিক ১০টি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আসা রপ্তানি আয়ও কমেছে। চলতি বছরের মে মাসে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রপ্তানি আয় এসেছিল ৭২ কোটি ডলার। আর পরের জুনে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রপ্তানি আয় এসেছে ৬৮ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রপ্তানি আয় কমেছে ৪ কোটি ডলার বা ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।
এএ