আমান কটনের এক বছর মেয়াদী আইপিও ফান্ড ব্যবহারে লাগবে এক দশক
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-০৯-১৭ ১৬:৫১:১৫

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আমান কটন ফাইব্রাস লিমিটেডের এক বছর মেয়াদী আইপিও ফান্ডের অর্থ ব্যবহারে সময় লাগছে এক দশক। ২০১৯ সালের মধ্যে আইপিও প্রক্রিয়ায় উত্তোলিত অর্থ ব্যবহার করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা ব্যবহার করেনি আমান কটন কর্তৃপক্ষ। ফলে ২০১৮ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলনকৃত অর্থ ব্যবহারে আবেদনের প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্ধারিত সমসয়সীমা মানছে না কোম্পানিটি। ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের মধ্যে উত্তোলন করা অর্থ ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও এ সময়ের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ অর্থ ব্যবহার করেছে। এখন নতুন করে এই অর্থ ব্যবহারে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছে আমান কটন কর্তৃপক্ষ। এতে আইপিও ফান্ডের অর্থ ব্যবহারে এক বছরের পরিবর্তে এক দশক সময় লাগছে আমান কটনের।
আইপিও ফান্ডের ব্যবহার
২০১৮ সালে যন্ত্রপাতি কেনা ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য শেয়ারবাজার থেকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৮০ কোটি টাকা উত্তোলন করে আমান কটন।
নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুসারে, ৩১ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত কোম্পানিটি মোট ৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যবহার করেছে, যা আইপিও অর্থের ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ। যেখানে এ সময়ে আইপিও ফান্ডের পুরো অংশই অর্থাৎ ৮০ কোটি টাকাই ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রতিশ্রুত ব্যয়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ ও আইপিও–সংক্রান্ত ব্যয়ে প্রসপেক্টাসে নির্ধারিত অংশ ব্যয় করলেও যন্ত্রপাতি ক্রয় ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য কোন অর্থ ব্যয় করেনি আমান কটন কর্তৃপক্ষ।
নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৩১ জুলাই পর্যন্ত আমান কটনের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা ঋণ পরিশোধে নির্ধারিত অর্থের ১০০ শতাংশ। সেইসাথে আইপিও সংক্রান্ত ব্যয়ের ক্ষেত্রেও প্রায় শতাভাগ অর্থ ব্যবহার করেছে কোম্পানিটি। আলোচ্য সময় পর্যন্ত আইপিও–সংক্রান্ত ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা যা প্রতিশ্রুত অর্থের ৯৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এই দুই খাত ছাড়া চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত নতুন কোনো অর্থ ব্যবহার করা হয়নি।
আইপিওর শর্ত অনুসারে, ৮০ কোটি টাকার মধ্যে ৬৬ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার যন্ত্রাংশ কেনার কথা ছিল। সেইসাথে ব্যবসা সম্প্রসারণে ৫ কোটি ৩৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহারের কথা ছিল। তবে নিরীক্ষক জানিয়েছে, চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত আইপিও অর্থ দিয়ে কোনো সম্পদ ক্রয়, আমদানি বা নির্মাণ করা হয়নি।
নিরীক্ষক আরও জানায়, বিএসইসির সম্মতিপত্র অনুযায়ী কোম্পানিকে আইপিও–এর সব অর্থ এক বছরের মধ্যে ব্যবহার করতে হতো, যার সময়সীমা শেষ হয় ২০১৯ সালের আগস্টে। অথচ ৩১ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত ৭১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা অব্যবহৃত রয়েছে।
২০২৮ সালের মধ্যে ব্যবহৃত হবে আইপিও ফান্ড
কোম্পানির ১৮তম বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদ আইপিও ফান্ড ব্যবহারের সময়সীমা ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। তবে এ সময়ের মধ্যেও আইপিও ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করতে পারেনি কোম্পানিটি। পরিচালনা পর্ষদ নতুন করে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা ২০২৮ সালের বার্ষিক সাধারণ সভা পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এফডিআরে বিনিয়োগ ৭৩ কোটি টাকা
নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭৩ কোটি টাকা অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন এফডিআরে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৩৮ কোটি টাকা ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ৩৫ কোটি টাকা। এই বিনিয়োগ অল্প সময়ের জন্য করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে।
ব্যাংক থেকে এফডিআর যাচাই করেছে নিরীক্ষক। এসব এফডিআর আমান ফুডস এবং আকিন ক্যারিয়ার্স লিমিটেডে ঋণ সুবিধার জন্য বন্ধক রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরীক্ষক। এছাড়া কোম্পানিটি ১৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা গ্রুপের অন্য একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে আন্তঃকোম্পানি ঋণ হিসেবে স্থানান্তর করেছে।
আইপিও ফান্ডের অর্থ উত্তোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএসইসি। সংস্থাটি বলছে আইপিও ফান্ডের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নিতেই এই কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে কোম্পানিটি।
বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, বলেন, টাকা যদি সত্যিকারেই প্রয়োজন হতো তাহলে কি তারা এফডিআর করতো? এফডিআর করতো না, তারা এটা ব্যবহার করতো।
তিনি বলেন, টাকা ব্যবহার করা যায়না এটা কোন কথা হলো? তারা টাকাটা অন্যত্র সরিয়ে নিতে চেয়েছে।
এফডিআরের রক্ষিত অর্থের পরিমাণ
নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বর্তমানে কোম্পানির এফডিআরের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ কোটি ৯১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে মূলধন ৭৩ কোটি টাকা এবং সুদ ৭ কোটি ৯১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। এছাড়া ১ কোটি ২০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা সুদ আয় হয়েছে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন থেকে, যা চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির নিয়মিত ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
কি বলছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ
আইপিও ফান্ড ব্যবহার না হওয়ার কারণ আমান কটন ফাইব্রাসের কোম্পানী সেক্রেটারী শরিফুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি ইউটিলিটিস রিপোর্টে উল্লেখ আছে উল্লেখ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে ইউটিলিটিস রিপোর্টে আইপিও ফান্ড ব্যবহার না হওয়ার কারণ পাওয়া যায়নি।
বিএসইসির ব্যক্তব্য
আমান কটনের সার্বিক বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, আমান কটন এফডিআর করে রেখেছে। এই এফডিআরকে লিয়েন বা বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছে। যেহেতু অন্য কোম্পানিতে ঋণ নিয়েছে তাই কমিশন এই এফডিআর গুলোকে ফ্রিজ করে দিয়েছে। এই এফডিআরকে কোনভাবেই ইনক্যাশ করা যাবে না। এটার মানে হলো, এই এফডিআর ফ্রিজটা যদি আনফ্রিজ করে দেয় তাহলে যেসকল ব্যাংক ঋণ দিয়েছে তারা এই অর্থ ইনক্যাশ করে নিয়ে যাবে। তার মানে আমান কটনের আইপিওর টাকা অন্যত্র সরে যাবে। কমিশন বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে।
এএ







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













