গভর্নর

ব্যাংকনির্ভর সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে, বন্ড ও সঞ্চয়পত্রকে লেনদেনযোগ্য করতে হবে

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-০৯-২২ ১৫:১৫:৩২


আমাদের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকমুখী। তারা বন্ড ইস্যু করতে চায় না, বরং অর্থায়নের জন্য ব্যাংকের কাছে যায়। বন্ডের মাধ্যমে পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেলের মতো নতুন প্রকল্প বন্ডের মাধ্যমে করতে পারি। আমাদের ব্যাংকনির্ভর করপোরেট সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে। সেইসাথে সঞ্চয়পত্রকে বন্ডের মতো লেনদেনযোগ্য করতে হবে।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকুঞ্জে বন্ড ও সুকুক মার্কেটের সম্ভাবনা নিয়ে বিএসইসি ও ডিএসই আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি আনিসুজ্জামান চৌধুরী।

এসময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, কেন দীর্ঘমেয়াদী ঋণের জন্য ব্যাংকে যায় তা সঠিক জানি না। তবে এর পেছনে হয়তো কোনো প্রণোদনা কাজ করে। হয়তো ঋণ পরিশোধ না করার সুযোগ আছে, নয়তো রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো যায়। কিন্তু কিছু সুবিধা যে আছে, তা স্পষ্ট।

অধিকাংশ দেশে চাহিদা ও সরবরাহ—দুটো দিকেই বন্ড মার্কেট গড়ে ওঠে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশেও সেটি করতে হবে। বাজারে সরকারি বন্ড আধিপত্য করছে। কিন্তু করপোরেট বন্ড মার্কেট কার্যত হিসেবের মধ্যে নেই, খুবই ছোট।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বন্ড মার্কেট উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। শিগগিরই তা সরকারের কাছে খুব সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ উপস্থাপন করা হবে।

সুকুকের বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে আহসান এইচ মনসুর বলেন, এখন পর্যন্ত মাত্র ২৪ হাজার কোটি টাকার ছয়টি সুকুক ইস্যু হয়েছে। অথচ আমাদের অনেক প্রকল্প আছে যেগুলো থেকে আয় হচ্ছে। সেই সম্পদগুলোকে সিকিউরিটাইজ করলে দ্রুত সুকুক বাজার বড় করা সম্ভব। যেমন যমুনা বা পদ্মা সেতু থেকে টোল আদায়ের প্রবাহকে ব্যবহার করে নতুন সেতু নির্মাণে বন্ড ইস্যু করা যেতে পারে। একইভাবে মেট্রোরেল, এয়ারপোর্ট, টোল রোড, ফ্লাইওভার—এসব প্রকল্প থেকেও আয়কে সিকিউরিটাইজ করে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের অর্থ জোগাড় করা সম্ভব। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ কার্যকরী বিভাগ দরকার, যা শুধু এই ইস্যুগুলো দেখবে।

বীমা খাতের উন্নয়ন অপরিহার্য উল্লেখ করে আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশে বীমার বাজার মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। ভারতে এটি ৪ শতাংশ, আর উন্নত দেশে ১২ শতাংশ করে। ফলে বীমা খাতের উন্নয়নও অপরিহার্য। আগে বাংলাদেশে গাড়ির জন্য বীমা বাধ্যতামূলক ছিল, এখন সেটি তুলে দেওয়ায় বাজার ছোট হয়ে গেছে। এটি ফিরিয়ে আনতে হবে।

সঞ্চয়পত্রকে লেনদেনযোগ্য করার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, সঞ্চয়পত্র এখন বাজারের সঙ্গে আংশিক যুক্ত হয়েছে। তবে এটিকে পুরোপুরি লেনদেনযোগ্য করতে হবে। এতে গ্রাহকেরাও উপকৃত হবেন এবং সেকেন্ডারি মার্কেট তৈরি হবে, তারল্য বাড়বে। সামান্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই এটি করা সম্ভব।

বিএইচ