

গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও জিম্মি মুক্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়নে একমত হয়েছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। নিজেই এই সুখবর দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
বুধবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি, ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে সই করেছে। খুব শিগগিরই সব জিম্মি মুক্তি পাবে, আর ইসরায়েল সেনাদের নির্ধারিত সীমায় সরিয়ে নেবে।
মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, হামাস–ইসরায়েল সমঝোতা বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, মিসরে দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন আলোচকরা। চুক্তি সম্পন্ন হলে নিজেই ঘোষণা দিতে মিসরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার ট্রাম্প ওয়াশিংটনের ওয়াল্টার রিড মেডিকেল সেন্টারে বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে শনিবার বা রবিবার মিসরে যেতে পারেন।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় সম্মতি জানানোয় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তার দপ্তরের এক বিবৃতিতে একে ‘ইসরায়েলের জন্য দারুণ দিন’ বলা হয়।
আজ ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা পরিকল্পনাটি অনুমোদন করতে পারে এবং নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে নেসেটে (পার্লামেন্টে) ভাষণ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
গত মাসে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনায় গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। এর প্রথম ধাপে হামাসের হাতে থাকা ৪৮ জন জিম্মি (২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হয়) মুক্তি পাবে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দীদের একটি অংশ ছেড়ে দেওয়া হবে।
মধ্যস্থতায় অংশ নিচ্ছে কাতার, তুরস্ক, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র। চলমান আলোচনার স্থান মিসরের পর্যটন শহর শারম আল শেখ।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু।