ইসলামী ব্যাংক থেকে অবৈধ নিয়োগ বাতিল ও পাচারকৃত অর্থ ফেরতের দাবি

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-১০-০৯ ১৪:৪৩:৫৭


ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে এস আলম গ্রুপের পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহিস্কারের দাবি জানিয়েছে সচেতন ব্যবসায়ী ফোরাম। এ দাবিতে বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যবসায়ী মো. মুস্তাফিজুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন হকস বে-এর চেয়ারম্যান ও বারভিডা’র সভাপতি আব্দুল হক, বারভিডা’র উপদেষ্টা ও নিউ অটো গ্যালারির প্রোপ্রাইটর নজরুল ইসলাম আলাম, শিল্পোদ্যোক্তা আল মামুন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে সচেতন ব্যবসায়ী ফোরামের সদস্য সচিব বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দক্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়ে দেশের অন্যতম সেরা ব্যাংকে পরিণত হয়। গার্মেন্টস, বড়, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পসহ প্রায় ছয় হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং ৮৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরিতে এ ব্যাংকের ভূমিকা ছিল অনন্য। কিন্তু ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রভাবে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিকে পদত্যাগে বাধ্য করে এবং বোর্ড দখল করে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে তারা নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকের প্রশাসনকে দুর্বল করে ফেলে। এস আলম ব্যাংকের তহবিল থেকে নামে-বেনামে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এতে ব্যাংক মারাত্মক তারল্য সংকটে পড়ে এবং দেশের বড় শিল্পগ্রুপ ও ভালো গ্রাহকরা ব্যাংক ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

তিনি বলেন, এস আলম ব্যাংকের মানবসম্পদ খাতেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। কোন বিজ্ঞাপন বা পরীক্ষার মাধ্যমে নয়, বরং মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ৮ হাজার ৩৪০ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার প্রার্থী পটিয়া এলাকা থেকে এবং সাড়ে সাত হাজারের বেশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের। অনেকেই ভুয়া সনদপত্র ব্যবহার করে ব্যাংকে যোগ দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, এসব অবৈধ নিয়োগের কারণে ব্যাংক প্রতিবছর প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছে, যা সাত বছরে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে ব্যাংকের এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি লোপাট—এই দুই সংকট মিলে ইসলামী ব্যাংক এখন টিকে থাকার সংগ্রামে রয়েছে।

ব্যবসায়ী আব্দুল হক বলেন, এস আলম পালিয়ে যাওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মানবিক কারণে এখনো অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বরখাস্ত করেনি। সম্প্রতি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে এসব কর্মকর্তা ব্যাংকের প্রতি অবাধ্যতা প্রকাশ করেছেন এবং অপপ্রচার চালাচ্ছেন—যা ব্যাংকের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।

বক্তারা দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংকের ৮২ শতাংশ শেয়ার এখনো এস আলমের মালিকানায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তা জব্দ করলেও এখনও লিকুইডেশন প্রক্রিয়া শুরু করেনি—যা রহস্যজনক।

সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। ব্যবসায়ী ফোরামের পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংকের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার ও ব্যাংক খাতের সুশাসন ফেরাতে নিম্নোক্ত দাবিগুলো হলো—

১. অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলমের অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বহিস্কার করতে হবে।
২. নতুন নিয়োগ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারাদেশের মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে হবে।
৩. এস আলম গ্রুপ কর্তৃক লুটকৃত ও পাচারকৃত অর্থ দ্রুত দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. বাংলাদেশ ব্যাংকের জব্দকৃত এস আলমের শেয়ার লিকুইডেশন করে ব্যাংকের দায় পরিশোধ করতে হবে।
৫. এস আলমের ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা সম্পদ দ্রুত বিক্রি করে ব্যাংকের ক্ষতি পূরণে পদক্ষেপ নিতে হবে।

ব্যবসায়ীর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যদি আজকের মধ্যেই অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের বহিস্কার না করে, তবে ব্যবসায়ী সমাজ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

বিএইচ