
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর চাঁনখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী দিতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসেছেন।
এখন তিনি এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি পেশ করবেন।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চত্বরে আসেন। এখন তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিটরের কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। এরপর তিনি ট্রাইব্যুনালের এজলাসে এসে জীবনবন্দি পেশ করবেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দুপুর ২টার পর জবানবন্দি পেশ করার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজি এমএইচ তামিম। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি আসেন।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্য গ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে বুধবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম।
মিজানুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর চাঁনখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেবেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর চাঁনখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে নবম দিনের মতো ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়েছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর এ মামলায় অষ্টম দিনের মতো সাক্ষ্য দেন একজন। ওই দিন সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাদের জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
গত ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্য শেষে মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১৮ জন জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিনে কারাগার থেকে চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
পলাতক আসামিরা হলেন- সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
গত ১৪ জুলাই চাঁনখারপুলের মামলাটির পলাতক চার আসামিসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ২০ এপ্রিল চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এটিই ছিল জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন। পরে গত ২৫ মে এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন।
এ মামলায় ৭৯ জনকে সাক্ষী করেছে প্রসিকিউশন। গত ১৪ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। সেই ধারাবাহিকতায় গত ১১ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের পর শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চাঁনখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হয়।
বিএইচ