ঘোষিত লভ্যাংশ দিচ্ছে না কোম্পানি, ভুগছে বিনিয়োগকারী
::জাকির হোসাইন আপডেট: ২০২৫-১০-২৬ ১০:০০:৫৩

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানি ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণ করছে না। এতে একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে লভ্যাংশ বিতরণ না করায় এসব কোম্পানির শেয়ার জেড ক্যাটাগরিতে অবনমন হচ্ছে। এতেও মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। ফলে প্রকৃতপক্ষে দুই দিকেই ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের মতে, লভ্যাংশ ঘোষণা করছে না কোম্পানি, অপরাধ করলে করেছে সেই কোম্পানির পরিচালকরা। কিন্তু জেড ক্যাটাগরিতে অবনমনে মূলত শাস্তি পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। তাই এই লভ্যাংশ বিতরণ নিশ্চিত করাসহ কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিতে পাঠানোর বিধান সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঘোষিত লভ্যাংশের পুরোটা দেয়নি ১৭ কোম্পানি
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুনে হিসাব বছর শেষ হওয়া এসব কোম্পানির মধ্যে ১২টি মূল বোর্ডে এবং ৫টি এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত। মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে লুব-রেফ (বাংলাদেশ), আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং, সাইফ পাওয়ারটেক, আমরা টেকনোলজিস, ফরচুন সুজ, ওরিয়ন ফার্মা, আমরা নেটওয়ার্কস, এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, এসএস স্টিল, আফতাব অটো মোবাইলস, এডভেন্ট ফার্মা।
অন্যদিকে অন্যদিকে এসএমই মার্কেটে তালিকাভুক্ত বিডি পেইন্টস ১২ শতাংশ, ওরাইজা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ৫ শতাংশ, মোস্তফা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ ৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেও কোনো অর্থ দেয়নি বিনিয়োগকারীদের। হিমাদ্রি লিমিটেড ঘোষিত লভ্যাংশের ৭৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ, বেঙ্গল বিস্কিটস ৬২ দশমিক ১৩ শতাংশ ও মাস্টারফিড এগ্রোটেক ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ অর্থ বিতরণ করেছে। অন্যদিকে কৃষিবিদ ফিড ২০২৩ সালের ডিভিডেন্ট এখনো কমপ্লিট করেনি।
এদিকে আফতাব অটো মোবাইলস ঘোষিত ১০ শতাংশ লভ্যাংশের ১২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বিতরণ করেছে। আর এডভেন্ট ফার্মা ১ শতাংশ ঘোষিত লভ্যাংশের ৪০ দশমিক ২১ শতাংশ বিতরণ করেছে।
ক্যাটাগরি অবনমন কোম্পানি নয়, বিনিয়োগকারীর শাস্তি
লভ্যাংশ বিতরণে ব্যর্থ হওয়া কোম্পানিগুলো ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন হয়। ফলে এসব কোম্পানির শেয়ার সেটেলমেন্টে হতে একদিন বেশি সময় লাগে। সাধারণত ‘এ’, ‘বি’ বা ‘এন’ ক্যাটাগরির শেয়ার টি+২ তে সেটেল হয়, অর্থাৎ শেয়ার কেনার পর তৃতীয় দিনেই বিক্রয়যোগ্য হয়। কিন্তু ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার বিক্রয়যোগ্য হয় চতুর্থ দিনে।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, এটি কার্যত বিনিয়োগকারীদেরই শাস্তি। এতে কোম্পানির কোন ক্ষতি হয় না। কারণ লভ্যাংশ না দেওয়ার দায় কোম্পানির হলেও বাজারে ভোগান্তিতে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরাই।
পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল আমিন বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, আসলে অনেক কোম্পানি একটু গড়িমসি করছে (লভ্যাংশ বিতরণে)। তো আমি সেজন্য মনে করি যে এটা যেহেতু বোর্ডের রেসপন্সিবিলিটি, বোর্ড যেহেতু লভ্যাংশ ঘোষণা দেয় তাহলে বোর্ডের ডিরেক্টরদের ব্যক্তিগত একাউন্ট যদি ফ্রিজ করে দেওয়া হয় তাহলে এগুলোর ব্যাপারে তারা কাজ করবে। কারণ সত্যিকার অর্থে ডিরেক্টরদের এই ব্যাপারে একশন না নিলে কোনদিনই সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা সময় মত ডিভিডেন্ড পাবে না।
এখানে বিনিয়োগকারীরা ভোগান্তির স্বীকার হবে না। কারণ সে একদিকে ডিভিডেন্ড পাবে না অন্যদিকে আবার ক্যাটাগরি পরিবর্তনও তার জন্য ক্ষতি। রেসপন্সিবিলিটি বোর্ডের, কিন্তু সাফারার কেন বিনিয়োগকারীরা হবে।
লভ্যাংশ ঘোষণা নিয়ে বিএসইসির নতুন নির্দেশনা
এদিকে লভ্যাংশ ঘোষণা নিয়ে কোম্পানিগুলোকে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি। বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, এখন যে কেউ এজিএম করার আগে যে লভ্যাংশ ঘোষণা করবে, এজিএম এর অন্তত একদিন আগে পৃথক ব্যাংক একাউন্টে তা জমা করতে হবে। জমা করে ওই ব্যাংক সার্টিফিকেট এবং স্টেটমেন্টসহ এজিএমে দেখাতে হবে যে এই ডিভিডেন্ডের টাকা পৃথক ব্যাংক একাউন্টে জমা আছে। ব্যাংকও সার্টিফিকেট দিবে এই টাকা আছে। কাজেই এখন যারা লভ্যাংশ ঘোষণা করবে তাঁদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কোন সুযোগ নাই। আর টাকা জমা করে ব্যাংক সার্টিফিকেট ও টাকা জমার তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জকেও দিতে হবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যক্তব্য
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র আবুল কালাম বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, যারা লভ্যাংশ ঘোষণা করে বিতরণ করছে না তাঁদের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট এককশন নেয়া হচ্ছে। মানে আমরা যেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি সেটা প্রক্রিয়াধীর রয়েছে।
এএ







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













