

নেই লভ্যাংশের ঘোষণা কিংবা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য, তবুও থামছে না পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লিমিটেডের শেয়ার দর। যেন আলাদীনের দৈত্যে ভর করে বেড়ে চলেছে কোম্পানিটির শেয়ার দর। গত কয়েক সপ্তাহের মতো বুধবারের লেনদেন শেষেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ার দর দাম বাড়ার শীর্ষ স্থানে রয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৮৬ পয়সা। অথচ ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১২ টাকা ৩২ পয়সা। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩৮ পয়সায়। নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো পার শেয়ার (এনওসিএফপিএস) দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৩ টাকা ৫৬ পয়সা। এই লোকসানের কারণে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দেবে না বলে ২৭ অক্টোবর ডিএসইর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়। তবে এর পরেও কোম্পানিটির শেয়ার দর বাড়ছেই।
গত বৃহস্পতিবার তার আগের সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছিল ৩০ টাকা ৭০ পয়সা বা ৪৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এতে এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দাম সম্মিলিতভাবে বেড়েছিল ৯২ কোটি ৬৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এ সময় শেয়ার দর ছিল ৯৩ টাকা ৯০ পয়সা। চার কার্যদিবসের ব্যবধানে বুধবারের লেনদেন শেষে এই শেয়ারের দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ২০ পয়সা বা ১৮ শতাংশ। এতে চার কার্যদিবসের ব্যবধানে সম্মিলিতভাবে শেয়ারা দর বেড়েছে ৫১ কোটি ৯২ লাখ ১৭ হাজার টাকা। বুধবারের লেনদেন শেষে শেয়ারটির দর দাঁড়িয়েছে ১১১ টাকা ১০ পয়সা। ফলে দুই সপ্তাহে সম্মিলিতভাবে আনোয়ার গ্যালভানাইজিয়য়ের শেয়ার দর বেড়েছে ১৪৪ কোটি ৫৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারী কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ৪ ডিসেম্বর কোম্পানিটির রেকর্ড ডেট।
এদিকে ২৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়। এতে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ২ টাকা ৮৬ পয়সা আয় হয়েছে। যেখানে গত বছর একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছিল ৮৮ পয়সা। শেয়ার প্রতি আয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কোম্পানিটি বলেছে, গত বছরের চেয়ে নন অপারেটিং ইনকাম বা অপরিচালন আয় গত বছরের চেয়ে প্রায় ১২ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইপিএসে এই পরিবর্তন ঘটেছে।
একইসাথে প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ক্যাশফ্লো হয় ৫ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ঋণাত্মক ১ টাকা ৫২ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৪ টাকা ২৪ পয়সা। ২০২৪ সালের ৩০ জুন শেষে শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১ টাকা ৩৮ পয়সা।
এ বিষয়ে কোম্পানি সেক্রেটারী তাওহীদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কোন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নাই। স্টক এক্সচেঞ্জ জানতে চেয়েছিল আমরা জবাব দিয়েছি।
ইপিএস গত ৩০ জুন শেষে শেয়ার প্রতি লোকসান ১২ টাকা থাকলেও ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত প্রান্তিকে দুই টাকা ৮৬ পয়সা আয় হওয়ার কারণ জানতে চাইলে জবাব দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে কোম্পানির একউন্টস দেখতে বলেন।
এদিকে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে কোম্পানিটির ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। তার আগে ২০২৩ সালে ১০ শতাংশ নগদ, ২০২২ সালে ২০ শতাংশ নগদ ও ৮০ শতাংশ বোনাস শেয়ার, ২০২১ সালে ২০ লভ্যাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার এবং ২০২০ সালে ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছে।
১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮০টি। এর মধ্যে ৩৫ দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ার আছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে। অধিকাংশেই অর্থাৎ ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ১৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ শেয়ার।
এএ