
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে দায়ের করা আপিলের টানা নবম দিনের শুনানি শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি শুরু হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য দায়ের করা এই আপিলের শুনানি গত ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছিল। এর আগে ৪ নভেম্বর, ২ নভেম্বর, এবং গত ২৯, ২৮, ২৩ ও ২২ অক্টোবরও এ সংক্রান্ত টানা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনগুলোর প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত আপিলের অনুমতি দেয়।
আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পাঁচজন এ বিষয়ে আপিল দায়ের করেন।
আপিল বিভাগের রায়ের পর সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, তোফায়েল আহমেদ, এম. হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান গত ৫ আগস্ট রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৬ অক্টোবর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২৩ অক্টোবর পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান। নওগাঁর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও গত বছর একই বিষয়ে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছিল। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে রিট খারিজ করে দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে আপিল করা হয়।
দীর্ঘ শুনানির পর আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দেয়। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়। পরদিন, ৩ জুলাই, সংশ্লিষ্ট গেজেট প্রকাশ করা হয়।