

ঐতিহাসিক সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। স্থানীয় সময় শনিবার (৮ নভেম্বর) তিনি দেশটিতে পৌঁছান। এই সফরের মাত্র একদিন আগে ওয়াশিংটন সরকার তাকে সন্ত্রাসবাদের কালো তালিকা থেকে বাদ দেয়।
গত বছর বিদ্রোহী বাহিনী দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আহমেদ আল-শারা সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী সোমবার তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
১৯৪৬ সালে সিরিয়ার স্বাধীনতার পর এটাই প্রথম কোনো সিরীয় প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্র সফর। এর আগে গত মে মাসে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় রিয়াদে প্রথমবারের মতো শারা ও ট্রাম্পের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট শারা এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী জোটে যোগদানের একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন।
তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র দামেস্কের নিকটে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যার উদ্দেশ্য হবে মানবিক সহায়তা সমন্বয় ও সিরিয়া–ইসরায়েল সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা।
গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট শারাকে কালো তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে মার্কিন প্রশাসন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ‘শারা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ করেছে—এর মধ্যে রয়েছে নিখোঁজ মার্কিন নাগরিকদের সন্ধানে সহযোগিতা এবং অবশিষ্ট রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের অঙ্গীকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার নেতৃত্ব যে অগ্রগতি দেখিয়েছে এবং দীর্ঘ ৫০ বছরের দমননীতির অবসান ঘটিয়েছে, সেই স্বীকৃতি হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’