সুপার টাইফুনের আঘাতে ফিলিপাইনে নিহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২৫-১১-১০ ১০:৫৭:৫৬


শক্তিশালী টাইফুন ফাং ওয়াং আঘাত হেনেছে ফিলিপাইনে। রবিবার (৯ নভেম্বর) রাতে উত্তর ফিলিপাইন তছনছ করে দিয়েছে এই ঝড়। এতে দুজনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের পর, কয়েকটি শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৯ লাখের বেশি মানুষকে।

এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রবিবার রাতে ফিলিপাইনের অরোরা প্রদেশের দিনালুংগান শহরে আঘাত হানার আগে ঘূর্ণিঝড়টি ‘সুপার টাইফুনে’ উন্নীত হয়। সারা রাত জুড়ে এটি দেশটির প্রধান দ্বীপ লুজনের বিভিন্ন অংশে তীব্র বাতাস, ভারী বৃষ্টি এবং জলোচ্ছ্বাস নিয়ে আঘাত হানে।

দেশটির আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফাং ওয়াংয়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার (১১৫ মাইল) বেগে বাতাস বয়ে যাচ্ছে। কখনো কখনো গতি পৌঁছাচ্ছে ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

স্থানীয়ভাবে ‘উওয়ান’ নামে পরিচিত এই টাইফুন ইসাবেলা প্রদেশের সান্তিয়াগো শহরে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ঝড়ে গাছের ডালপালা ও বিদ্যুতের খুঁটিও উপড়ে গেছে।

নিদ্রাহীন রাত কাটিয়ে সোমবার সকালে ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করতে শুরু করেন স্থানীয়রা।

প্রাথমিক হিসেবে বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, টাইফুনে অন্তত দুজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন।

অরোরা প্রদেশের ভাইস-গভর্নর প্যাট্রিক অ্যালেক্সিস আঙ্গারা বলেন, ভূমিধস ও সড়ক ভাঙনের কারণে অন্তত তিনটি শহর এখন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

‘ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে,’ বলেন আঙ্গারা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, টাইফুনটি বর্তমানে দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে এবং উত্তর-পূর্ব দিকে তাইওয়ানের দিকে মোড় নিতে পারে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, দেশের বৃহৎ একটি অংশ এখনও ভারী বৃষ্টি, প্রবল বাতাস ও উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে রয়েছে।

রবিবার থেকে এখন পর্যন্ত ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

ফাং-ওং ছিল এ বছর ফিলিপাইনে আঘাত হানা ২১তম ঘূর্ণিঝড়। গত সপ্তাহে আরেকটি শক্তিশালী টাইফুন ‘কালমায়েগি’র আঘাতে ২২৪ জনের মৃত্যু হয়। ভিয়েতনামেও পাঁচজন মারা যান।

এনজে