বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে আইপিডিসির বিনিয়োগ
আপডেট: ২০২৫-১১-১৬ ১৮:২৫:৪৮

দূর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত রেখেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি। এর মধ্যে একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ইসলামী ব্যাংকও রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অবসায়ন হতে পারে এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও আমানত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। একীভূত হতে যাওয়া দুই ব্যাংক ও অবসায়ন হবে এমন দুই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আইপিডিসির আমানতের পরিমাণ প্রায় ৮৮ কোটি টাকা। দুর্বল এসকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত রাখায় এসকল আমানত ফিরে পাওয়ার বিষয়ে যেমন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তেমনি বড় ধরণের ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আমানতকারীরা।
আইপিডিস ফাইন্যান্সের ২০২৪ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৬২৭ কোটি টাকা আমানত রয়েছে। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি প্লেসমেন্ট হিসেবে দুইটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ৮৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আমানত রয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ৯ টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। এসকল প্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকার নীতিগতভাবে মতামত দিয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন গভর্নর। এই ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তালিকায় পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস রয়েছে।
নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ব্যাংক মার্জ দিয়ে শুরু হয়েছে, তো ব্যাংক মার্জারটা যদি একটু এগিয়ে যায় তারপর এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ছাড়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, এখনো প্রক্রিয়া ওভাবে শুরু হয়নি, চিহ্নিত করা হয়েছে যে কোনগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে এখনও এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে আমানত রেখেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স। এর মধ্যে একীভূত হয়ে যাওয়া দুই ব্যাংক এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে মোট ৮৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা রয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এক্সিম ব্যাংকে ৪৪ কোটি টাকা ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা স্থায়ী আমানত হিসেবে রাখা হয়েছে। এসকল আমানত ফেরত পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
বাংলাদেশে ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত হওয়ার তালিকায় থাকা ব্যাংকগুলোতে সরকারি তহবিল যোগান দেওয়া হবে। তখন আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। যাদের আমানত ২ লাখ টাকা বা তার কম, তাঁরা একবারে পুরো টাকা তোলার সুযোগ পাবেন। বাকি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে ধাপে ধাপে। এছাড়া যাদের আমানত বেশি তাঁদেরকে নতুন ব্যাংকের শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাব করা হতে পারে। এক্ষেত্রে ২০ শতাংশ আমানতকে শেয়ারে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আইপিডিসি ফাইন্যান্সের কোম্পানি সেক্রেটারী ও লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান সামিউল হাশিম বলেন, আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ করব। বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে নির্দেশনা দেবে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিয়ম তো সবার জন্যই একই, আমি তো ভিন্ন কেউ না। বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে বলে সেভাবেই কাজ করা হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, আমানতের বিষয়টা প্রথমেই বলা হয়েছে যে, কারো আমানত খোয়া যাবে না। কিন্তু এই মুহূর্তে সবার আমানত দেওয়া সম্ভব না। ক্ষুদ্র আকারে এক লাখ বা দুই লাখ টাকা করে দিতে পারবে। বাকিদের দিতে পারবে না, এর অর্থ এই না যে বাকিদেরটা আমরা রিফিউজ (প্রত্যাখান) করলাম। সবই থাকবে তবে সময় লাগবে। প্রাতিষ্ঠানিক হোক বা ব্যক্তি পর্যায়ে বড় আকারের যদি ডিপোজিট থাকে সেটার ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি।
এএ







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













