

আজ সোমবার রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া- "২য় নারী কাবাডি বিশ্বকাপ-২০২৫" এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ ৪২-২২ পয়েন্টে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন উগান্ডাকে হারিয়েছে। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল ১৪-১২ পয়েন্টে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আজ প্রথমবারের মতো কাবাডি বিশ্বকাপ আয়োজন করছে, যা বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও দৃঢ় প্রত্যয়ের এক অসামান্য স্বীকৃতি। কাবাডি শুধু খেলা নয়, বাংলাদেশের ঐতিহ্য এবং জাতীয় চেতনার অংশ।
আসিফ মাহমুদ আরো বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুব উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। নারী কাবাডি বিশ্বকাপ সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। অংশগ্রহণকারী সকল ক্রীড়াবিদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনসহ বিশ্বকাপ আয়োজন সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান উপদেষ্টা।
জমজমাট উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষেই ছিল স্বাগতিক বাংলাদেশের ম্যাচ। পুরো গ্যালারি ছিল দর্শকে পূর্ণ। নিজ দলের মেয়েদের দারুণ এক জয়ের সাক্ষী হয়েছেন সমর্থকরা। সারাক্ষণ তারা বাংলাদেশ বাংলাদেশ স্লোগানে মাতিয়ে রাখেন রুপালি-স্মৃতিদের। যদিও প্রথমার্ধে ভালোই লড়াই করেছে উগান্ডা। শুরুতে বাংলাদেশের মেয়েদের একটু রক্ষণাত্মক মনে হয়েছে। তবে পুরো ম্যাচেই স্মৃতি আক্তার ছিলেন ব্যতিক্রম। মূলত ডিফেন্ডার হলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রেইডে গিয়ে পয়েন্ট তুলে নিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন।
উগান্ডা আফ্রিকা অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন। প্রথমবারের মতো তারা বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে খেলতে এসেছে। শারীরিক দিক দিয়ে তারা এগিয়েছিল স্বাগতিকদের চেয়ে। তবে অভিজ্ঞতা ও ট্যাকটিকসে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ-ই। তারপরও প্রথমার্ধে উগান্ডাকে খুব বেশি পিছিয়ে রাখা যায়নি। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ মাত্র দুই পয়েন্টে (১৪-১২ পয়েন্টে)এগিয়ে ছিল।
বিরতির পরও উগান্ডা বেশ কিছুক্ষণ খেলায় ছিল। একটা সময় তো বাংলাদেশের অর্ধে ছিলেন কেবল স্মৃতি আক্তারই। পয়েন্টেও ছিল সমতা। এবার তো উগান্ডা এগিয়েও গিয়েছিল। তবে ডু অর ডাই রেইডে দুইজনকে ঘায়েল করে স্মৃতি দারুণভাবে দলকে ম্যাচে ফেরান। এরপর আর থামানো যায়নি স্বাগতিকদের। দ্বিতীয়ার্ধে দু’বার উগান্ডাকে অলআউট করে ব্যবধান অনেক বাড়িয়ে নেয় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত তারা ম্যাচটা জিতে নেয় ৪২-২২ পয়েন্টে। অর্থাৎ দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ যেখানে ২৮ পয়েন্ট তুলেছে, সেখানে উগান্ডা তুলতে পারে মাত্র ১০ পয়েন্ট।
দারুণ জয়ে আসর শুরু করা বাংলাদেশ আগামীকাল মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটায় গ্রুপ ‘এ’ তে দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে জার্মানির। বুধবার উগান্ডা তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে। ম্যাচসেরা স্মৃতি আক্তার বলেছেন, ‘শুরুতে আমরা কিছুটা চাপ অনুভব করছিলাম। যেহেতু কখনও আমরা উগান্ডার সঙ্গে খেলিনি, এই প্রথমবার খেলছি, ওদের ম্যাচটা আমাদের বুঝতে একটু সময় লেগেছে। এর জন্য শুরুতে একটু অগোছালো মনে হয়েছে। ওদের বুঝে নেওয়ার পরে আমরা অনেক ভালো খেলেছি। অনেক ভালো লাগছে, মানে বলার বাইরে কতটুকু ভালো লাগছে, জয় পেয়েছি। পরবর্তীতে চেষ্টা থাকবে যে প্রথম ম্যাচে যেহেতু জিতেছি, পরের গুলোও ইনশাআল্লাহ জিতবো।’
বিএইচ