

মধ্যরাতে দৈনিক বাণিজ্য প্রতিদিনের নিজস্ব প্রতিবেদক বিল্লাল হোসেনকে অপহরণ চেষ্টা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তানিম আখন্দ এবং ফার্সি বিভাগের এমদাদুল হক মিলন। অভিযুক্তরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কর্মী বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গতকাল (বুধবার) রাতে সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন অফিস শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসায় ফেরার পথে অভিযুক্তরা তাকে আগ থেকেই টার্গেট করে একই গাড়িতে উঠে। পরে বিল্লাল রাজধানীর শনির আখড়ায় বাস থেকে নামার সময় অভিযুক্তরা তাকে মারপিট করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় বাসের যাত্রীরা এগিয়ে আসলে বাস চলন্ত থাকায় কেউই নেমে যেতে পারেনি। পরে রাজধানীর সাইনবোর্ডে বাস থামলে অভিযুক্ত তানিম আখন্দ সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যান। তবে বাসের যাত্রীরা এমদাদুল মিলনকে আটক করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সোপার্দ করা হয়।
খবর পেয়ে রাতে ২টার দিকে থানায় হাজির হন ঢাবি ছাত্রদল নেতা পাবেল, আলফিসহ আরো তিন নেতা। রাতভর থানায় অবস্থানের পর সকাল ৮টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এস আই মনিরুল থেকে নিজেরা এ ঘটনার মিমাংসা করবেন মর্মে মুচালেকা দিয়ে ঢাবি ছাত্রদল নেতারা অভিযুক্ত মিলনকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।
জানতে চাইলে ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন বলেন, গতকাল রাতে ০১৭২৪০৬২৬৭৩ এই নম্বর থেকে ফোন দিয়ে সনদ হারানোর বিজ্ঞাপনের বিষয়ে কথা বলে আমার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চায় অজ্ঞাত ব্যক্তি। আমি অফিসে আছি বললে কখন বের হবো জানতে চেয়ে পরবর্তীতে নাম্বার বন্ধ করে দেয় ঐ ব্যক্তি। পরবর্তীতে অফিস শেষে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসে উঠে শনির আখড়া পৌছালো তখন আমি নেমে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত তানিম ও এমদাদ এলোপাতারি মারধর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় বাসের যাত্রীরা এগিয়ে এসে তাদেরকে আটক করে। পরবর্তীতে বাস সাইনবোর্ডে থামলে অভিযুক্ত তানিম পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমার বন্ধুরা এসে আমাকে উদ্ধার করে এবং বাস যাত্রীদের কয়েকজন থানায় ফোন দিয়ে অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এস আই মনির বলেন, অভিযুক্ত এমদাদকে থানায় আনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার জন শিক্ষার্থী থানায় এসে নিজেদেরকে ছাত্রদল নেতা পরিচয় দেন। এসময় ভুক্তভোগী সাংবাদিকের সঙ্গে তারা বিষয়টি নিজেরা মিমাংসা করেবেন বলে জানান। যেহেতু ভুক্তভোগী কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি তাই আমরা অভিযুক্ত এমদাদকে ছাত্রদল নেতাদের জিম্মায় ছেড়ে দেই।
এএ