কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ৩৫ বিডিয়ার সদস্য
প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৫-১১-২৫ ১০:৩০:২৭

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বিডিয়ারের সাবেক ৩৫ সদস্য। এসময় কারাফটকের সামনে তাদের আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ৫৩ জনের জামিন মঞ্জুর করে আদালত। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা থেকে তারা পর্যায়ক্রমে কারাগার থেকে বের হন।
মুক্তিপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১ জন, কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ থেকে ২ জন এবং পার্ট-২ থেকে ৩২ জন রয়েছেন। তাদের জামিনের কাগজপত্র সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে কারাগারে এসে পৌঁছায়। তা যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধ্যায় তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কারাগাপরের জেল সুপারেরা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, দুপুরে সাবেক বিডিআর সদস্যে বন্দি এক১ জনের জামিনের কাগজ পত্র কারাগারে পৌঁছায়। পরে কাগজ পত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাকে সন্ধ্যায় মুক্তি দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ এর সিনিয়র জেল সুপার আবু নূর মোঃ রেজা বলেন, এ কারাগার থেকে ২ জন সাবেক বিডিআর সদস্যকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর সিনিয়র জেল সুপার মোঃ আল মামুন বলেন এ কারাগার থেকে ৩২ জন সাবেক বিডিআর সদস্যকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। দুপুরে তাদের জামিনের কাগজ পত্র কারাগারে পৌঁছায়। পরে কাগজ পত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাদেরকে সন্ধ্যায় মুক্তি দেওয়া হয়।
সাবেক বিডিআর সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুনের বড় বোন কামরুন্নাহার বলেন, একসময় ভাবতাম আদৌও ভাইকে পাব কি’না এমনটি মনে হচ্ছিল। আজকে ভাইকে সামনা সামনি পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। এর পেছনে যারা কাজ করছে সহযোগিতা করছে সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমার ভাইয়ের চিন্তায় বাবা মারা যায় এবং মা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখন মার বুকে ছোট ভাইকে তুলে দিতে পারলে কিছুটা স্বস্তি পাবো। তিনি আরো বলেন, ভেতরে যারা রয়েছে তারাও যেন মুক্তি পায়।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রæয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এতে বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। সব মিলিয়ে ৭৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিদ্রোহের ঘটনায় পরদিন ও ২৮ ফেব্রুয়ারি হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি পৃথক মামলা হয়। হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ৮৫০ জনকে আসামি করা হয় যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলা হিসেবে বিবেচিত। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদন্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেন। খালাস পান ২৭৮ জন।
এনজে







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













