অবশেষে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৫-১২-০১ ১১:০৮:৩৯


দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অনিন্দ্য সুন্দর প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল সোয়া ৭টায় তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় সেন্টমার্টিন। তবে নভেম্বর মাসে পর্যটকরা সেখানে রাত্রিযাপন যাপন করতে পারবেন না— এমন বিধিনিষেধ আরোপ করলে গত এক মাস সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে কোনো জাহাজ ছেড়ে যায়নি।

ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় আজ সকাল থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা করে তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ।

জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের’ সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, চলতি মৌসুমের প্রথম যাত্রার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজগুলোর সব প্রস্তুতি ভালোভাবে নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের ভ্রমণ সুন্দর ও নিরাপদ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেন্টমার্টিনে যেতে পর্যটকদের আগ্রহ সন্তোষজনক।

তবে পরবর্তী মৌসুম থেকে অন্তত ৪ মাস যদি রাত্রিযাপনের সুযোগ মেলে তাহলে পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্টরা লাভবান হবেন।

সেন্টমার্টিনের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, পর্যটন ব্যবসায় আমাদের বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন, পর্যটকদের বরণে এখানকার মানুষ মুখিয়ে আছে। হয়তো অনেক সংকট আমাদের আছে তারপরেও দ্বীপবাসী আতিথেয়তায় কোনো কমতি রাখবে না।

এদিকে সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২টি নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে জেলা প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, সেন্টমার্টিন আমাদের সম্পদ, সরকারের আরোপিত নির্দেশনাগুলো মেনে চলা উচিত। আশা করছি, দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকসহ সংশ্লিষ্টরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে। তা না হলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি ও পর্যটক সংখ্যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

নির্দেশনাগুলো হলো—

১. বিআইডব্লিউটিএ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান সেন্টমার্টিন দ্বীপে চলাচল করতে পারবে না।

২. পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট ক্রয় করতে হবে, যেখানে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে।

কিউআর কোড ছাড়া টিকিট অবৈধ গণ্য হবে।

৩. দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি ও পর্যটক সংখ্যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

৪. নভেম্বর মাসে কেবল দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে, রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ।

৫. ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে।

৬. ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

৭. প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন।

৮. দ্বীপে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ।

৯. কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ-বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

১০. সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা যে কোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

১১. পলিথিন বহন করা যাবে না এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক (চিপসের প্যাকেট, স্ট্র, মিনিপ্যাক সাবান-শ্যাম্পু, ছোট প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি) নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

১২. প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এনজে