‘বন্ধুকে হারাতে বসেছিলাম’—বাবুকে নিয়ে তারিক চয়নের পোস্ট ভাইরাল

সানবিডি২৪ ডেস্ক আপডেট: ২০২৫-১২-০৩ ২১:৪৯:১০


যুবদল নেতা সাজিদ হাসান বাবু, যাকে ২০২৩ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা বেধড়ক মারধরের শিকার হতে হয়েছিল। তাকে নিয়ে দীর্ঘ আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন প্রথিতযশা সাংবাদিক ও কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে তারিক চয়ন।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি বাবুর ওপর হওয়া নির্মম নির্যাতন, নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীতে বাবুর জীবনসংগ্রামের নানা দিক তুলে ধরেন।

তারিক চয়ন লিখেছেন, ভিডিওতে নির্যাতনের শিকার যুবদল নেতা বাবু তার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বন্ধু। ঘটনার সময় বাবু ছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা। ২০২৩ সালের ২৯ জুলাই বিএনপির ঘোষণা করা ঢাকার চার প্রবেশমুখে অবরোধ কর্মসূচির দিন পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের হামলায় বাবুকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ভিডিওটি যখন পেলাম, নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মুহূর্তেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম। ভিডিওটি দেশ–বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুদের কাছেও পাঠাই। তার ভাষায়, হামলার পর বাবুকে প্রথমে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ‘মৃত ভেবে’ ফেলে রাখা হয়।

সম্প্রতি ঢাকায় সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারি দেশে ফিরলে প্রথম সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাবুর সঙ্গে তারিক চয়নের আবার দেখা হয়। এরপর গুলশানে বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গেও বাবুর বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

তারিক চয়ন জানান, বাবু পরে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে কাজের সহযোগিতা চেয়ে বার্তা পাঠান। বাবুর রাজনৈতিক সংগ্রাম, একাধিকবার আটক থাকা এবং জেল থেকে এলএলবি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মতো তথ্যও সেই বার্তায় উল্লেখ ছিল।

পোস্টে তারিক চয়ন লিখেছেন, বন্ধু, তুই আমাকে ক্ষমা কর। তুই আমাকে পাওয়ারফুল ভাবিস ঠিকই, কিন্তু আমি একেবারেই পাওয়ারলেস। সব জায়গাতেই ফ্যাসিস্টের প্রেতাত্মাদের পদচারণায় আমি পিষ্ট।

তবে লেখার শেষে তিনি উল্লেখ করেন, বাবুর ওপর হামলার ঘটনায় যদি কোনো ব্যক্তিগত কারণ থাকে, তাহলে তা অনুসন্ধানের ভার তিনি আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের ওপর ছেড়ে দিলেন।

পোস্ট শেষে তিনি আরও লিখেছেন, এই লেখার কারণে তার নিজের পদ নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে; তবুও বন্ধুকে নিয়ে লিখতে পেরে তিনি স্বস্তি পাচ্ছেন।

তারিক চয়নের পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাজিদ হাসান বাবু ২০০৪-৫ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব পালনের পর যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু- আবদুল মোনায়েম মুন্না কমিটির সহ পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সাবেক এই যুবনেতাকে নিয়ে লেখা তারিক চয়নের পোস্টটি শেয়ার করেন আরেক সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। যেখানে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই নির্যাতিতরাই সবচাইতে বেশি বঞ্চিত হয়। আর যারা তাঁদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে ফায়দা লোটে — তারা ওই ভোজবাজির’ মতো উদয় হয়, আবার ভোজবাজির মতোই গায়েব হয়ে যায়।

বিএইচ