আইডিআরএ অভিযোগ
চাকরির প্রলোভনে পদ্মা লাইফের দুই কর্মকর্তার অর্থ আত্মসাৎ
সানবিডি২৪ প্রকাশ: ২০২৫-১২-১০ ০৮:১৫:৪২

উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চার নারীর কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) সাজ্জাদ হোসেন ও জেনারেল ম্যানেজার মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিন ভুক্তভোগী গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগকারীরা হলেন—নিগার সুলতানা, নদীয়া আক্তার ও শাহনাজ পারভীন। এছাড়া হিমু নামের আরেক নারীর কাছ থেকেও অর্থ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে নিগার সুলতানার কাছ থেকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদে চাকরি দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা, নদীয়া আক্তারের কাছ থেকে ইউনিট ম্যানেজার পদে চাকরি দেওয়ার জন্য ২২ হাজার ২৬০ টাকা এবং শাহনাজ পারভীনকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদে চাকরি দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া এফএ পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে হিমু নামের আরেক নারীর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার টাকা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘সম্ভব অ্যাপস’ নামের একটি অ্যাপে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রধান কার্যালয়—১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, বাংলা মোটরে যোগাযোগ করেন অভিযোগকারীরা। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন বিজ্ঞাপনদাতা ছিলেন কোম্পানিটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাজ্জাদ হোসেন এবং জেনারেল ম্যানেজার মো. জিল্লুর রহমান।
অভিযোগকারী নিগার সুলতানার ভাষ্য, দুই কর্মকর্তা তাকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদে নিয়োগের আশ্বাস দেন। ফিক্সড বেতন হিসেবে মাসে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেন। তবে নিয়োগের শর্তে দাবি করেন ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দর কষাকষির মাধ্যমে ভুক্তভোগী মোট ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, “টাকা নেওয়ার পর তারা আর কোনো নিয়োগপত্র দেননি। উল্টো জানান, চাকরিটি কমিশনভিত্তিক। প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকার টার্গেট পূরণ না করলে কোনো কমিশনও দেওয়া হবে না। অর্থাৎ বেতনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা মিথ্যা।”
এরপর টাকা ফেরত চাইলে তাকে জোরপূর্বক দুইটি ইন্স্যুরেন্স পলিসির কাগজ ধরিয়ে দেওয়া হয়—যা অভিযোগকারীর অনুমতি ও জ্ঞানের বাইরে তার নামে করা হয়েছে। পলিসি দুটির বিবরণ—১. ১,৮৭,৫৩০ টাকা—পলিসি নং PAA-E-1423-25 এবং ২. ৪১,২৭৫ টাকা—পলিসি নং PAA-E-1190-25।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, তাদের এসব পলিসি প্রতিবছর চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তারা একজন গৃহিণী; কোনো উপার্জনের উৎস নেই—ফলে এসব পলিসি বহন করা অসম্ভব।
অভিযোগকারীরা আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া আবেদনপত্রে টাকা ফেরত চেয়েছেন। একইসঙ্গে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন।
পদ্মা লাইফের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী চার নারীর সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছে। সবাই জানিয়েছেন, কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে তাদের ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছিল। ফিক্সড বেতন, শুক্র-শনিবার ছুটি এবং সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিস করার শর্তসহ অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল। এমনভাবে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছিল। তাই প্রতারণা হতে পারে—এই বিষয়টি তাদের মাথায় আসেনি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. জিল্লুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) সাজ্জাদ হোসেন কাছে দাবি করেছেন, তিনি অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত নন। অভিযোগকারীরা স্বেচ্ছায় বীমা পলিসির জন্য টাকা দিয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, টাকা নিয়েছে জিল্লুর রহমান।
সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন, “আমি গত কয়েক দিন হলো চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। তবে এ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মোরশেদ আলম সিদ্দিকী বলেন, “চাকরির প্রলোভনে কয়েকজনের কাছ থেকে দুই কর্মকর্তার টাকা নেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
ডিএমডি সাজ্জাদ হোসেন চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন; এখন কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তারা চাকরি ছেড়েছে—এই তথ্য আমার কাছে নেই।”







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











