
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় যাতায়াত করা সব নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল ট্যাংকারের ওপর ‘অবরোধ’ আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশটির প্রধান আয়ের উৎস তেল খাতকে সরাসরি লক্ষ্য করছে।
এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এ বিষয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমাদের সম্পদ চুরি করা এবং সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার ও মানবপাচারসহ বহু কারণে ভেনেজুয়েলার শাসকগোষ্ঠীকে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই আজ আমি ভেনেজুয়েলায় যাওয়া ও সেখান থেকে বের হওয়া সব নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল ট্যাংকারের ওপর সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক অবরোধের নির্দেশ দিচ্ছি।”
ভেনেজুয়েলার সরকার এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ‘বিকৃত ও অশোভন হুমকি’বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে ট্রাম্পের নির্দেশনা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প আগের সপ্তাহে যেমন করেছিলেন, তেমনি এবারও কি কোস্ট গার্ডকে ব্যবহার করে জাহাজ আটকানো হবে—সে বিষয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা এবং একটি বিমানবাহী রণতরীসহ প্রায় এক ডজন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর এশীয় লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের ফিউচার দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৫৫.৯৬ ডলারে ওঠে। তবে মঙ্গলবার তেলের দাম নেমে এসে ব্যারেলপ্রতি ৫৫.২৭ ডলারে বন্ধ হয়, যা ফেব্রুয়ারি ২০২১–এর পর সর্বনিম্ন।
তেলবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কায় দাম বাড়ছে। তবে তারা এখনও অপেক্ষা করছেন—ট্রাম্পের ঘোষিত অবরোধ কীভাবে কার্যকর হবে এবং তা কি নিষেধাজ্ঞাবিহীন জাহাজগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করবে কি না।
এনজে