
বিপ্লবী শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহতভাবে শাহবাগ মোড় অবরোধ চলমান রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার সারারাত অবরোধ চলেছে।
এর আগে, রাত ১০টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ঘোষণা দিয়েছেন, তারা অবরোধ জারি রাখবেন। এটা রাত গড়িয়ে শনিবারও অব্যাহত থাকবে।
কম্বল ও সামিয়ানা টাঙানোর কথাও জানান তিনি।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, হাদি ভাই, আমরা বিচার নিশ্চিত না করে যাব না। আমরা আমাদের অবস্থান জারি রাখব। আমরা খুনিদের বিচার চাই।
এর বাইরে আমাদের কোনো চাওয়া নাই। আগামী ২৭ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কার্যক্রম শেষ করতে হবে। বিচার কার্যক্রম শুরু হলে আমাদের কার্যক্রম আমরা তুলে নেব। তার আগে কোনো আশ্বাসে আমরা কর্মসূচি থেকে সরব না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শনিবার ওসমান হাদির কবর জেয়ারতের কথা রয়েছে। এ ব্যাপারে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাবি শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনীম জুমা বলেন, বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অবস্থান চলবে।
দেখা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দীন আম্মার স্লোগান দিচ্ছেন। কম্বল গায়ে জড়িয়ে লোকজন শাহবাগ মোড়ে বসে আছেন। তাদেরকে ঘিরে অনেকে দাঁড়িয়ে আছেন।
তারা শাহবাগ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশে অবস্থান করছেন। চারদিকে ব্যারিকেড দিয়ে মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সড়কের পাশের ছোট লেনে যান ধীরগতিতে চলছে।
স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, ‘শাহবাগ না ইনসাফ, ভারত না বাংলাদেশ, উই ওয়ান্ট জাস্টিস, লীগের দালালরা, হুঁশিয়ার সাবধান, এক হাদির রক্ত থেকে লক্ষ হাদি জন্ম নেবে’ইত্যাদি।
এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে লেকচার থিয়েটার, ভিসি চত্বর ও টিএসসি প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ মোড়ে এসে অবরোধ করে ইনকিলাব মঞ্চ।
মিছিলে শিক্ষার্থী, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। অবস্থানের কারণে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় এবং হত্যার বিচারের নিশ্চয়তা দিতে না পারে, তবে সেই সরকারের কোনো নৈতিক অধিকার নেই।’
অবস্থান কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চ তাদের তিন দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এগুলো হলো- দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে হত্যার বিচার সম্পন্ন করা; হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গোয়েন্দা সংস্থা (যেমন এফবিআই বা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড) যুক্ত করা, সিভিল ও মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে লুকিয়ে থাকা দায়ীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করা; এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও আইন উপদেষ্টার পদত্যাগ নিশ্চিত করা।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এনজে