

সাংবাদিকদের এআই জানা ঈমানি দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম। এসময় এআই যেন সাংবাদিকতার স্বর্ণসূত্র ভাঙ্গতে না পারে সে জন্য প্রতিটি তথ্য কোট বা এভিডেন্স দিয়ে যাচাই করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সতর্ক করার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দুই দিনের এআই-পাওয়ার্ড সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালায় এ মন্তব্য করেন প্রেস সচিব।
শফিকুল আলম বলেন, ডিপ ফেইকের কারণে এখন প্রতিনিয়ত ফটো কার্ডের অত্যাচার শুরু হয়েছে। আমিই এর শিকার হয়েছি। আমার ২৭ মিনিটের বক্তব্য এমন ভাবে জোড়াতালি দিয়ে দ্রুত এক মিনিটে করে দিয়েছে তা অবিশ্বাস্য। তাই যারা এআই জানে না তাদের সাংবাদিকতা করা উচিত নয়। এআই জানা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। আর যতদিন আমরা টেক-স্বনির্ভর না হবো ততদিন সাংবাদিকদের ফ্যাক্টচেকারের ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব না নিয়ে ফেসবুকের মতো সোশ্যাল হ্যান্ডেলগুলো 'ফ্রিডম অব প্লাটফর্ম' বলে নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে ঘৃণা ছড়াচ্ছে। তাদের কারণে আমাদের ১০ লাখ রোহিঙ্গাদের দায় সৃষ্টি করেছে।
প্রেস সচিব বলেন, এআই আমাদের সবার জানতে হবে। এ থেকে আমাদের মুক্তি নেই। এই টুলস আমাদের কাজে সহায়তা করবে একইসঙ্গে সত্য-মিথ্যা নির্ণয়ে সহায়তা করবে। তবে সাংবাদিকতার 'স্বার্ণালী কোট' পরিবর্তন করে দেয়ার ঝুঁকি আছে। তাই এখানে কোনো কম্প্রমাইজ করা যাবে না। এআই এর তথ্য ভেরিফাই করতে হবে। এজন্য বাড়তি খাটুনি বাড়বে।
ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে ও সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় ডিআরইউ তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, গেমপ্লিফাই এক্সওয়াইজেড সিইও মাহফুজুর রহমান বক্তব্য রাখেন।
সমাপনীতে ভারতীয় ও ভিনদেশী আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত প্রযুক্তি জ্ঞান কাজে লাগানোর আহ্বান জানান ডিআরইউ সভাপতি।
জুমে যুক্ত হয়ে গেমপ্লিফাই এক্সওয়াইজেড প্রতিষ্ঠাতা মশিউর রহমান সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব থেকে বেরিয়ে সুস্থ ধারার একটি পরেবেশ গড়ে তুলতে চাই। এজন্য গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য যাচাইয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এজন্য আমরা সামনে যৌথ উদ্যোগে আরও কাজ করবো।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে কুইজে ডিআরইউ সদস্য সাইফ গাজী আনোয়ার, আল আমিন আজাদ পুরস্কৃত হন।
বিকেলের প্রশিক্ষণে গুগল'র রিভার্স ইমেজ সার্চ ছাড়াও ফেইক ছবি বা ভিডিও যাচাই করতে একাধিক টুলস ব্যবহারের পরামর্শ দেন ফ্যাক্ট চেকার কদরুদ্দিন শিশির।
অফিসিয়াল মেইল দিয়ে ডিপওয়্যারডটএআই, ইনভিড টুল দিয়ে সন্দেহজনক ছবি এবং হাইভ মডারেশন এইআই ডিপওয়্যারডটএআই দিয়ে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও যাচাইয়ে গুরুত্বারোপ করেন দেন তিনি।
বিএইচ