
গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। এ সময়ে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ অনেকটা অনুকূলে না থাকায় গত এক বছরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের আগ্রহ দেখায়নি কোন কোম্পানি।
অপরদিকে, বিগত বছরগুলোতে অর্থ সংগ্রহ করা অনেক কোম্পানি নির্ধারিত সময়েও আইপিও তহবিল শেষ করতে পারেনি। কেউ কেউ বারবার সময় বাড়ালেও সেই অর্থ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। আবার কিছু কোম্পানি আংশিক ব্যবহার করলেও তা লক্ষ্য অনুযায়ী খুবই সামান্য।
দেশের পুঁজিবাজারে সর্বশেষ আইপিও এসেছে টেকনো ড্রাগসের। ২০২৪ সালের জুনে এই কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলন করে। এরপর আর কোনো কোম্পানির আইপিও আসেনি। অর্থাৎ দেড় বছর ধরে পুঁজিবাজারে আইপিও আসা বন্ধ রয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এত দীর্ঘ সময় আইপিও না আসার ঘটনা আর ঘটেনি। এমনকি একটি পুরো বছরে কোনো আইপিও না আসার ঘটনাও এটিই প্রথম।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশনের অধীনে ২০২০ ও ২০২১ সাল পরপর দুই বছর পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ উত্তোলন হয়। তবে ২০২২ সালে আইপিওর সংখ্যা কমে আসে। ২০২৩ সালে আইপিওতে রীতিমতো ধস নামে, যা অব্যাহত থাকে ২০২৪ সালেও।
২০২৪ সালে আইপিওতে শেয়ার বিক্রি করা ৪ কোম্পানি হলো- এনআরবি ব্যাংক, বেস্ট হোল্ডিং, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং টেকনো ড্রাগস। এর আগে ২০২৩ সালে মিডল্যান্ড ব্যাংক, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, শিকদার ইন্স্যুরেন্স এবং ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড আইপিওতে আসে।
পরপর দুই বছর মাত্র চারটি করে প্রতিষ্ঠান আইপিওতে এলেও এর আগের বছর ২০২২ সালে ৬টি প্রতিষ্ঠান আইপিও’র মধ্যে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করে।
২০২০ সালে আটটি প্রতিষ্ঠান আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করে। ২০১৪ সালে ২০টি প্রতিষ্ঠান আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করে। গত ১৬ বছরে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে শেয়ারবাজারে সবচেয়ে কম আইপিও এসেছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে কোনো কোম্পানির আইপিও আসেনি।
এসকেএস