
পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল না হওয়া আরও একটি বছর চলে গেল। ২০২৫ সালটি দেশের পুঁজিবাজার এতটাই অস্থির ছিল যা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপেও গতি ফিরে পায়নি। ফলে বছরজুড়ে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী।
অথচ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে পরিবর্তনের যে আবহ তৈরি হয়েছিল তাতে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা ভেবেছিলেন এ বাজারেরও সংস্বার হবে। তাতে দীর্ঘ দিন ধরে অস্থির থাকা পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে। কিন্তু তাদের সে চাওয়া পূরণ হয়নি।
বিনিয়োগকারীদের পূঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে দেখা গেছে তাদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে। যদিও বছরজুড়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলা ফেরানো, টেকসই উন্নয়ন, অসদাচরণ রোধ, নজরদারির আধুনিকায়ন, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের চেষ্টা করাসহ আইনকানুন সংশোধন এবং আধুনিকায়নের কাজ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন (বিএসইসি)। এতকিছুর পর কাঙ্খিত বাজারের দেখা মেলেনি ২০২৫ সালে।
যেমন ছিল ২০২৫ সালের ডিএসই
বছর শেষে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে। আগের বছর শেষে এই সূচক ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্টে। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ডিএসইএক্স ৩৬১ পয়েন্ট বা ৬.৭২ শতাংশ কমেছে।
অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বছর শেষে দাঁড়ায় ১০০০ পয়েন্টে। আগের বছরের শেষ কর্মদিবস এই সূচক ছিল ১ হাজার ১৬৮ পয়েন্টে। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ডিএসইএস ১৬৮ পয়েন্ট বা ১৪.৩৮ শতাংশ কমেছে।
আর ডিএস-৩০ সূচক বছর শেষে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৫৩ পয়েন্টে। আগের বছর শেষ কর্মদিবস এই সূচক ছিল ১ হাজার ৯৩৯ পয়েন্টে। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে এই সূচক ৮৬ পয়েন্ট বা ৪.৪৩ শতাংশ কমেছে।
এদিকে বিদায়ী বছরে পুঁজিবাজার থেকে বাজার মূলধন ১৫ হাজার ৫৬২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বা ২.৩৪ শতাংশ বেড়েছে। বছরের শেষ দিন বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৮২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আগের বছরের শেষ কর্মদিবস বাজাার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৬২ হাজার ৬১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
২০২৫ সালে মোট ২৪০ কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ কম। ২০২৪ সালে মোট লেনদেন হয়েছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫১২ কোটি ১৩ লাখ টাকার। এটি গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ কম লেনদেন।
২০২৫ সালে ব্লক মার্কেটের মোট লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ৩৩৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১০০ শতাংশ কম। ২০২৪ সালে ব্লক মার্কেটের মোট লেনদেন হয়েছে ৯ হাজার ২৫১ কোটি ৮০ লাখ মোট লেনদেনের মাত্র ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ এসেছে ব্লক মার্কেট থেকে।
২০২৫ সালটিতে ডিএসইর জন্য ভালো কিছু বয়ে না আসলেও বাজার মূলধন বেড়েছে। সব নেতিবাচকতার মধ্যে এটাই শুধু ইতিবাচক বিষয় বছরটিতে।
বছর শেষে ডিএসইতে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৮১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন টাকা, যা বছরের শুরুতে ছিল ৬ হাজার ৬২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন টাকা। এতে বাজার মূলধন ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।
২০২৫ সালে বাজারের পিই রেশিও কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৯ পয়েন্টে। যেখানে আগের বছর ছিল ৯ দশমিক ৫০ পয়েন্ট।
এসকেএস