রপ্তানিতে পতন অব্যাহত
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০১-০৫ ১৭:১৮:৪৭

- ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় কমেছে ১৪.২৫ শতাংশ
- ৬ মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ২.১৯ শতাংশ
- ডিসেম্বরে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৪.২৩ শতাংশ কম
- ৬ মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২.৬৩%
যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাচাহিদা দুর্বল থাকা এবং প্রচলিত ইউরোপীয় বাজারে চীন ও ভারতের বাজার দখলের প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি আয় টানা পাঁচ মাস ধরে কমছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) গতকাল (রোববার) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় ১৪.২৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮৯ কোটি ডলারে, যেখানে আগের বছরের একই মাসে ছিল ৪৬৩ কোটি ডলার। এর আগের মাস নভেম্বরেও রপ্তানি ৫.৫৪ শতাংশ কমেছিল।
জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে মোট রপ্তানি আয় ২.১৯ শতাংশ কমে প্রায় ২৪০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এ খাতেও বড় ধরনের মন্দা দেখা গেছে। সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে মোট ৩২৩ কোটি ৪১ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই রপ্তানি আগের বছরের ডিসেম্বরের ৩৭৭ কোটি ৫ লাখ ডলারের চেয়ে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৬৩ কোটি ১৮ লাখ ডলারের এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৬০ কোটি ২৪ লাখ ডলারের। আগের বছরের ডিসেম্বর মাসে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ১৮৯ কোটি ১৮ লাখ ডলারের এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ১৮৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের।
এদিকে, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই–ডিসেম্বর) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ সময়ে মোট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৯৩৬ কোটি ৫৪ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে হয়েছিল ১ হাজার ৯৮৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ৪৮ কোটি ৮১ লাখ ডলারের নিট পোশাক (নিটওয়্যার) রপ্তানি হয়েছে, যা বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২২ শতাংশ কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছিলো ১ হাজার ৮৩ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের।
এছাড়া, চলতি অর্থবছরে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৮৮৭ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৯০৫ কোটি ৩ লাখ ডলারের। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে আলোচিত ছয় মাসে ওভেন পোশাকের রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৯১ শতাংশ।
অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের রপ্তানি কমলেও একক বছর হিসেবে ২০২৫ সালে পোশাক রপ্তানি সামান্য বেড়েছ। মূলত, বছরের প্রথম ছয় মাসের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ভর করে পুরো বছরটিতে সামান্য প্রবৃদ্ধি এসেছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে মোট ৩ হাজার ৮৮২ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের। ২০২৪ সালে মোট পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৩ হাজার ৮৪৮ কোটি ২১ লাখ ডলারের। অর্থাৎ সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩৪ কোটি ২৬ লাখ ডলার বা শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দেশে রাজনৈতিক সরকার না থাকা এবং মার্কিন শুল্ক অরোপের কারণে পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। বৈশ্বিক মন্দায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। বায়াররা অর্ডার কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া, মার্কিন শুল্কনীতির কারণে ভারত-চীনের ব্যবসায়ীরা ইউরোপের বাজারে নজর দিয়েছে। তারা কম দামে পোশাক অর্ডার নিচ্ছে। তাই, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। এর বাইরে দেশের সার্বিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা নতুন করে রপ্তানি আদেশ দিতে দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে সার্বিকভাবে পোশাকের রপ্তানি কমেছে।
এএ







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













