ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০১-১২ ১৮:৫৭:২৯

- চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস চারদিনে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ৫৯,৭৫৬ কোটি, গত বছরের তুলনায় ৬১৯% বৃদ্ধি
- ছয় মাস চারদিনে বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৩৫ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা
- এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ২৪ হাজার ৬ কোটি টাকা
>> টেকসই অর্থনীতির জন্য সরকারকে ব্যাংক নির্ভরতা কমাতে হবে: মাজেদুল হক, অর্থনীতিবিদ
কম রাজস্ব আহরণ এবং বৈদেশিক ঋণে ভাটা পড়ায় ব্যয় মেটাতে সরকার আবার ব্যাংক ঋণের দিকেই ঝুঁকছে। চলতি বছরের শুরুতে সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে পরিশোধ করেছিল। কিন্তু অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে সরকারের ব্যাংক ঋণ নেওয়ার গতি দ্রুত বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই ব্যাংক খাত থেকে সরকার লক্ষ্যমাত্রার ৫৭ শতাংশের বেশি ঋণ নিয়েছে। এতে করে চাপে পড়েছে ব্যাংকিং সেক্টর। অপরদিকে পর্যাপ্ত লোন পাচ্ছে না বেসরকারি খাত। এই অবস্থা দেশের অর্থনীতির জন্য খারাপ লক্ষণ বলেও মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকার ব্যাংকগুলো থেকে ৫৯ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছে, যা এ অর্থবছরের বাজেট লক্ষ্যমাত্রার ৫৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা। যেটা লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও বেশি।
এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস চারদিনে সরকার ব্যাংক খাত থেকে যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছে, তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬১৯ শতাংশ বেশি। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে সরকার নিট ঋণ নিয়েছিল আট হাজার ৩১২ কোটি টাকা। যদিও চলতি অর্থবছরের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারের ব্যাংক ঋণ ৫০৩ কোটি টাকা কমেছিল।
এ বিষয়ে কথা বললে অর্থনীতিবিদ মাজেদুল হক বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, সরকারের টার্গেট অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না এবং বৈদেশিক ঋণও আসছে না। অপরদিকে সরকারের ব্যয়ও আগের চেয়ে বাড়ছে। তাই ব্যয় মেটাতে সরকার এখন ব্যাংক খাত থেকেই ঋণ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের এভাবে ঋণ নেওয়া অর্থনীতির জন্য ভালো লক্ষণ নয়। সরকারের বেশি ঋণ নেওয়ার কারণে ব্যাংকগুলো প্রাইভেট সেক্টরে ঋণ দিতে পারে না। আর প্রাইভেট সেক্টরে যদি বিনিয়োগ কমে যায় তাহলে কর্মসংস্থানও হবে না। বেকারত্ব বাড়বে। এতে করে অর্থনীতির ক্ষতি হবে। টেকসই অর্থনীতির জন্য সরকারের ব্যাংক-নির্ভরতা কমাতে হবে।
তথ্য মতে, গত অর্থবছরের ৩০ জুন শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের মোট ঋণের পুঞ্জিভূত স্থিতি ছিল চার লাখ ৫২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৮৮ হাজার ২৩২ কোটি টাকায়। ফলে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস চারদিনে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বেড়েছে ৩৫ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। যদিও গত অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা।
অন্যদিকে গত অর্থবছরের ৩০ জুন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের স্থিতি ছিল ৯৮ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বেড়ে হয়েছে এক লাখ ২২ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা। ফলে এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ২৪ হাজার ৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকার ৫৪ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা ঋণ ফেরত দিয়েছিল। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ১০ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা।
খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থবছরের শুরুর দিকে সরকার উন্নয়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছিল। পাশাপাশি রাজস্ব আয়ের ভালো প্রবৃদ্ধি এবং বিদেশি ঋণপ্রাপ্তির কারণে সরকারের প্রাথমিকভাবে ঋণচাহিদা কম ছিল। তবে বর্তমানে উন্নয়ন ব্যয়ের গতি বৃদ্ধি, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে বিনিয়োগ, নির্বাচনি ব্যয় এবং ভর্তুকি ও সুদ পরিশোধের দায় বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা আবার বেড়েছে।
এএ







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













