

সম্প্রতি গেজেট হওয়া আইপিও বিধিমালায় বাজার ভিত্তিক প্রাইসিং নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি পূর্বের বিধিমালায় যেসব বিষয় ছিল না সেগুলোকে নতুন বিধিমালায় যুক্ত করা হয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নিয়ে এই বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলে নতুন আইপিও বিধিমালার বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান সংস্থাটির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম।
এসময় বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক হাসান মাহমুদ, অতিরিক্ত পরিচালক লুৎফুল কবির, যুগ্ম পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
আবুল কালাম বলেন, আইপিও বিধিমালা নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১৭০টিসহ মোট ২২০টি মতামত ছিল। আমরা প্রতিটি মতামত নিয়ে আলোচনা করেছি। যার প্রতিফলন ঘটেছে আইনে। আপনারা দেখবেন খসড়া আইন ও চূড়ান্ত আইনের মধ্যে পার্থক্য আছে।
নতুন বিধিমালায় মূল সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরে বিএসইসির মুখপাত্র বলেন, আমরা বাজার ভিত্তিক প্রাইসিং করতে চেয়েছি। স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, ইন্ডিকেটিভ প্রাইস এবং বিডিং এর মাধ্যমে কাট অফ প্রাইস নির্ধারণ করে ইউনিফর্ম একটা প্রাইসে আইপিও করার বিধান করা হয়েছে। আর প্রাইসিংটা কোনভাবেই আমরা প্রেসক্রাইব করে দেইনি। এগুলো বাজার সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকেই মতামত এসেছে।
তিনি বলেন, প্রাইসিংটা ইস্যু ম্যানেজার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভ্যালুয়েশন মডেলগুলো, বিশেষ করে এবসলিউট ভ্যালু মেথড এবং রিলেটিভ ভ্যালু মেথড এই দুইটা মেথড থেকে অন্তত দুটো দুটো করে চারটা মেথড দিয়ে এই ভ্যালুয়েশন করবে যেন ভালো ভ্যালুয়েশন নিয়ে আসতে পারে।
ছোট কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্তির জন্য প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা অল্প পরিশোধিত মূলধনের তাদেরকে এই বুকবিল্ডিংয়ে বিডিং, রেড হেরিং প্রসপেক্টাসসহ বিভিন্ন প্রসেসে যাওয়া, তারপরে রেজিস্টার টু দ্যা ইস্যু নিয়োগ দেওয়া এসব জটিলতা থেকে ছোট কোম্পানির জন্য ফিক্সড প্রাইসে প্রিমিয়াম ডিসকাউন্ট যেভাবে জাস্টিফাই করে সেইভাবে তারা আসতে পারে। আগের যে বিধানটা ছিল যে প্রিমিয়াম চাইতে গেলে বুক বিল্ডিংয়ে যেতে হবে। ছোট কোম্পানি গুলোর ক্ষেত্রে যেন এটা না হয় সেটাতে পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া গ্রীনফিল্ড কোম্পানি বা কোম্পানি নতুন করে গঠন করেই যাতে পাবলিকের থেকে টাকা নিতে পারে সেই বিধান পূর্বে ছিল না, কিন্তু নতুন আইনে যুক্ত হয়েছে। এখনই একটা কোম্পানি ফর্ম করে পাবলিকের কাছ থেকে টাকা নিতে পারবে। তবে সেখানে স্পন্সরের শেয়ারহোল্ডিং ৭৫ শতাংশ বা ম্যাক্সিমাম ২৫ শতাংশ পাবলিক থেকে নিতে পারবেন সেই বিষয়ে বলা হয়েছে।
পাবলিক প্রাইভেট প্রজেক্টগুলোকে যাতে তালিকাভুক্ত হতে বিধিমালায় সুযোগ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাবলিক প্রাইভেট প্রজেক্ট (পিপিপি) যেগুলো সেগুলোকেও নতুন বিধিমালায় যুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি যারা তারা অনেক সময় বেশি পরিমাণে স্টেক পাবলিককে দিতে চায় না। তারাও যেন এই মার্কেটের তালিকাভুক্ত হয়ে কিছু ফান্ডামেন্টাল সিকিউরিটি যোগান দিতে পারে সেখানেও কিন্তু বিধান এসছে যে ১০ শতাংশের কমেও যেন তারা এখানে আসতে পারে। এই বিধানটা কিন্তু এখানে যুক্ত করা হয়েছে।
বিএইচ