চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অচলাবস্থা : পণ্য নিয়ে সাগরে ভাসছে ৮৫টির বেশি জাহাজ

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০১-১৮ ১৭:১৬:৫১


দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল বা বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রমে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্যশস্য, সার এবং শিল্পের কাঁচামালসহ প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন পণ্য নিয়ে সাগরে ভাসছে ৮৫টিরও বেশি জাহাজ। পণ্য খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় লাইটার বা ছোট জাহাজের তীব্র সংকটের কারণে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস করতে না পারায় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন বিশাল অঙ্কের মাশুল বা জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, এই সংকটের মূল কারণ কেবল লাইটারেজ জাহাজের অভাব নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা এবং জাহাজের অপব্যবহার। জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে খাদ্যশস্য পরিবহনকারী বেশ কিছু লাইটারেজ জাহাজ গন্তব্যে পৌঁছানোর পরও পণ্য খালাস করছে না। আমদানিকারকরা এসব জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। ফলে পণ্যবাহী এই জাহাজগুলো দীর্ঘ সময় ধরে আটকে আছে এবং পুনরায় পণ্য পরিবহনের জন্য ফিরে আসতে পারছে না। ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, এটি একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সংকট যা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।

সাধারণত বড় শিল্প গ্রুপগুলো তাদের নিজস্ব লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহার করে পণ্য খালাস করে থাকে। তবে সাধারণ আমদানিকারকরা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) থেকে জাহাজের বুকিং নেন। বর্তমানে বিডব্লিউটিসিসি চাহিদা অনুযায়ী জাহাজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে প্রতিদিন ২শ থেকে ৩শ লাইটারেজ জাহাজের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০টি। ফলে অর্ধশতাধিক জাহাজের পণ্য খালাস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের সূত্রে জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ে ৫০ হাজার টন পণ্য নিয়ে আসা একটি মাদার ভেসেল ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস করে বন্দর ত্যাগ করতে পারে। কিন্তু বর্তমান সংকটের কারণে এই সময়সীমা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। অনেক জাহাজকে ২০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত বহির্নোঙরে অলস বসে থাকতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো জাহাজ দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও এক টন পণ্যও খালাস করতে পারছে না।

এই বিলম্বের কারণে শিপহ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বহির্নোঙরে অবস্থান করা প্রতিটি মাদার ভেসেলকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা করে ড্যামারেজ বা জরিমানা দিতে হচ্ছে।

বিডব্লিউটিসিসি এই সংকটের জন্য ঘন কুয়াশা এবং বিএডিসির সারের কাজে ১৪০টি জাহাজ আটকে থাকাকে দায়ী করেছে। তবে ব্যবসায়ী ও জাহাজ মালিকদের সংগঠনের নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। ইনল্যান্ড ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগংয়ের মতে, বিডব্লিউটিসিসির অধীনে থাকা ১ হাজার ২শ জাহাজের মধ্যে প্রায় ৩শ টি মোংলা বন্দরে চলে গেছে। এছাড়া ৬৮৭টি জাহাজ পণ্য বোঝাই করে গন্তব্যে যাওয়ার পর খালাস না করে এক থেকে দেড় মাস ধরে আটকে আছে। অপারেটররা এই সংকট নিরসনে জাহাজের সিরিয়াল প্রথা বাতিল করে উন্মুক্ত ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে দ্রুততম সময়ে পণ্য খালাস করে অচলাবস্থা দূর করা সম্ভব হয়।

বিএইচ