পোস্টার ছাড়াই শুরু নির্বাচনি প্রচারণা

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০১-২২ ০৯:১৩:৫৪


বহুল প্রতিক্ষীত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু হয়েছে এবার পোস্টার ছাড়ায়। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ বছর প্রচার-প্রচারণার সময় আচরণবিধি লঙ্ঘনে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। আচরণবিধি ভাঙলে ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ জরিমানা এবং দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিধান লঙ্ঘনে আরপিওতে প্রার্থিতা বাতিলেরও বিধান রয়েছে।

বুধবার ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রতীক পেয়ে ভোটের মাঠে প্রচারণা করতে পারতেন প্রার্থীরা। তবে এবার একদিন পরে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর) থেকে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচনি প্রচার ও ভোটের দিন কোনো প্রকার ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এ জাতীয় যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায় এমন বিধান রাখা হয়েছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো নির্বাচনি এলাকায় একক কোনো জনসভায় একই সঙ্গে তিনটির বেশি মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রচার প্রচারণায় প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে বাতিল হতে পারে প্রার্থিতা।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে নির্বাচন কমিশন কাউকে ছাড় দেবে না। এক্ষেত্রে কোনো শোকজ করা হবে না। যে কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে।

নারীদের সাইবার বুলিং রোধ করা; বিদেশে কোনো প্রার্থীর পক্ষে সশরীরে প্রচারণা না চালানো; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যাচার বা অপপ্রচার চালালে শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে আচরণ বিধিমালায়।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বিলবোর্ড বিষয়ে ইসি বলেছে, প্রচারণায় বিদ্যুতের ব্যবহার করা যাবে। তাছাড়া আলোকসজ্জার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীর প্রচারে বিলবোর্ডের ব্যবহার অতীতে ছিল না, এবার যুক্ত করা হয়েছে। পোস্টার ব্যবহার বন্ধে সংস্কার কমিশনেরও একটা প্রস্তাব ছিল। আর ব্যানার ও ফেস্টুনের ব্যবহার নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরও যোগ করা হয়েছে। ফলে তারা প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামতে পারবেন না। প্রচারে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে। প্রচারসামগ্রীতে পলিথিন, রেকসিনের ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রচারের সময় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলে রাখতে হবে। প্রচারণার সময় থাকছে তিন সপ্তাহ। আচরণবিধি মেনে চলার ব্যাপারে দলের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামাও নেবে ইসি।

এনজে