ইইউর বাজারে ভারতের জিএসপি সুবিধা বাতিল, বড় চাপে রপ্তানি খাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আপডেট: ২০২৬-০১-২৪ ১২:৩৬:২৫


ইউরোপী ইউনিয়ন (ইইউ) চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ভারতের তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও প্লাস্টিকসহ অধিকাংশ পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা বা জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস (জিএসপি) স্থগিত করেছে। এর ফলে ইউরোপের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে যাচ্ছেন ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা। ভারতের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও কেনিয়া থেকেও রপ্তানি হওয়া পণ্যে একই সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) জানিয়েছে, ইইউতে রপ্তানি হওয়া ভারতীয় পণ্যের প্রায় ৮৭ শতাংশ এখন থেকে পূর্ণ এমএফএন বা সাধারণ শুল্কহারে প্রবেশ করবে। এর আগে জিএসপি সুবিধার আওতায় এসব পণ্যে গড়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কছাড় পাওয়া যেত।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আগে যেসব তৈরি পোশাকে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো, এখন সেগুলোতে ১২ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।

ইইউর এই সিদ্ধান্ত ভারতের প্রধান রপ্তানি খাতগুলোকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে খনিজ, রাসায়নিক, প্লাস্টিক, বস্ত্র ও পোশাক, লোহা-ইস্পাত, যন্ত্রপাতি এবং বৈদ্যুতিক পণ্য। তবে মোট পণ্যের মাত্র ১৩ শতাংশ, বিশেষ করে কৃষি ও চামড়াজাত পণ্য, এখনো এই সুবিধার আওতায় থাকবে। ইইউর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরের জন্য এই জিএসপি সুবিধা পুরোপুরি প্রত্যাহার কার্যকর থাকবে।

ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস (এফআইইও)–এর মহাপরিচালক অজয় সাহাই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো দেশের তুলনায় ভারতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাবে। কারণ এসব দেশ এখনো ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পাচ্ছে।

এদিকে, জিটিআরআই-এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব জানান, একদিকে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার, অন্যদিকে একই সময়ে ইইউর নতুন কার্বন কর (সিবিএএম) চালু হওয়া—এই দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাবে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা বড় ধরনের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন। যদিও ভারত ও ইইউর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা ভারতের জন্য কঠিন হবে।

এনজে