বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে হতাশা

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশ: ২০২৬-০১-২৬ ০৯:৪৪:২০


ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না থাকাটা যেন মানতেই পারছেন না ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) প্রধান নির্বাহী টম মোফাট! যা তাঁকে চরমভাবে ব্যথিত করেছে। তাঁর মতে, এই ব্যাপারটি শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও সমর্থকদের জন্যই নয়, খেলাটির জন্যও একটি দুঃখজনক ঘটনা।

শুধু মোফাট নন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি হতাশ করেছে রশিদ লতিফ, জেসন গিলেস্পি, শহীদ আফ্রিদি এবং মোহাম্মদ ইউসুফের মতো সাবেক তারকাদেরও। সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক রশিদ লতিফ মনে করেন, কোনো পূর্ণ সদস্য দেশ ছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজনের চিন্তাই অর্থহীন।

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানেরও বিশ্বকাপ বয়কট করে এগিয়ে আসা উচিত। যদিও সব জল্পনার মধ্যেই গতকাল বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। এর এক দিন আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছিলেন, বয়কটের বিষয়ে তাঁরা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। একই সুর শোনা গেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহর কণ্ঠেও।

তিনি বলেন, ‘হয়তো এতে কিছু অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে, তবে তা সামাল দেওয়া সম্ভব। পাকিস্তান যদি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়, তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।’ পাকিস্তানের বয়কটের প্রসঙ্গটি টেনে রশিদ লতিফ বলেন, ‘পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে না যায়, তাহলে পুরো পরিস্থিতিই ওলট-পালট হয়ে যাবে। তখন এটি আর বিশ্বকাপ হিসেবে টিকে থাকবে না।

বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক জানিয়ে ডব্লিউসিএ-এর প্রধান নির্বাহী মোফাট বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে দেওয়া এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির শীর্ষ আসর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট জাতির অনুপস্থিতি আমাদের খেলাটির জন্য, বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক মুহূর্ত। এ বিষয়ে গভীরভাবে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।’বিভক্তি দূরে সরিয়ে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘খেলাটির নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি আমার আহ্বান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, লিগ, খেলোয়াড়সহ সব অংশীদারকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করুন, যাতে ক্রিকেট বিভক্ত না হয়ে আরো ঐক্যবদ্ধ হয়।’

এদিকে ভারতের উদাহরণ টেনে আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার গিলেস্পি। সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানে খেলতে রাজি না হওয়ায় ভারতের জন্য আলাদা ভেন্যু দেওয়া হয়েছিল।

পুরো টুর্নামেন্ট একই হোটেলে থেকে খেলেছিল ভারত। আইসিসির কাছে তাই গিলেস্পির প্রশ্ন, ‘ভারত যখন চ্যাস্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানে খেলতে রাজি হয়নি, তখন তাদের জন্য আলাদা ভেন্যুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পুরো টুর্নামেন্ট তারা একই হোটেলে থেকে খেলেছিল। তাহলে বাংলাদেশ কেন ভারতের বাইরে খেলতে পারবে না? আইসিসি কি এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে?’ আইসিসির আচরণে সরাসরি হতাশা প্রকাশ করেছেন আফ্রিদিও। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এবং আইসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আইসিসির ভূমিকা আমাকে হতাশ করেছে। ২০২৫ সালে পাকিস্তান সফর নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ আইসিসি মেনে নিলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান ভিন্ন মনে হচ্ছে।’আফ্রিদির স্বদেশি ইউসুফও একই সুরে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশের মতো ক্রিকেটপ্রেমী একটি দেশকে বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত হতে দেখা অত্যন্ত দুঃখজনক। আইসিসিকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল হিসেবে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে, যেন কোনো একক বোর্ডের স্বার্থ রক্ষার অভিযোগ না ওঠে।’সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় আইসিসির নীতিগত অবস্থান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এনজে