‘বাংলাদেশের সাহসী তরুণরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না’

সানবিডি২৪ আপডেট: ২০২৬-০১-২৬ ১৫:১৯:৩৩


জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সাহসী তরুণরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না। তিনি বলেন, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা জাতির জন্য গভীর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার সকালে কুষ্টিয়ার আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আবরার ফাহাদ ও আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এসব ঘটনায় শুধু কয়েকজন মানুষ নয়, পুরো সমাজ আহত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অসংখ্য তরুণকে পরিকল্পিতভাবে নিঃশেষ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং মায়েদের চোখের পানি দেখেছেন। সেসব চোখের পানি শুধু কান্না নয়, তা ছিল রক্তের মতো বেদনাদায়ক। সেই শোকের সামনে সান্ত্বনার ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন।

নারীদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বড় শহরগুলোতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা হবে। আমাদের এত তালা কেনার টাকা নেই যে নারীদের ঘরে বন্দি করে রাখবো। নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই জামায়াতের লক্ষ্য। যোগ্যতার ভিত্তিতে যেন কেউ কোনো সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে পরিবেশ তৈরি করা হবে।

এ সময় তিনি দেশের নদ-নদীর দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন। পদ্মা ও গড়াই নদীকে মরুভূমির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, নদী রক্ষার নামে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটের মাধ্যমে শেষ করে দেওয়া হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর জামায়াত দেশ রক্ষায় রাজপথে নামলেও কেউ কেউ দেশকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তারা কোনো অন্যায় মামলা না করলেও, অনেকেই মামলা বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ যদি জীবিকা নির্বাহের জন্য চাঁদাবাজির পথে যেতে বাধ্য হয়, তাহলে তারা যেন জামায়াতের কাছে আসে—সম্মানজনক জীবনের পথ দেখানোর দায়িত্ব দলটি নেবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক মানুষকে আয়নাঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী এখনো সন্ধানহীন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের পরিবার আজও জানে না, তারা জীবিত আছেন কি না

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি এসব ঘটনার বিচার, নিখোঁজদের খোঁজ এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, যে জাতি মায়েদের সম্মান করতে পারে না, সে জাতি কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। তিনি বলেন, একটি জাতির নৈতিক শক্তি ও মানবিকতা বোঝা যায় মায়েদের প্রতি তাদের আচরণ থেকে। আমটা ক্ষমতায় গেলে মায়েদের সম্মান করবো।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতার মোহে বেহুঁশ হয়ে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেছে। তিনি বলেন, একই বেহুঁশ অবস্থায় তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন—কোনো প্রতিশোধ নেওয়া হবে না, এবং জামায়াতে ইসলামী সেই অবস্থানে অটল থাকতে পেরেছে।

জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ সিবগা, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের জামায়াত ইসলামের প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দিন, কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে মোঃ আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে মুফতি আমির হামজা ও কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে মোঃ আফজাল হোসাইনসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য রাখেন।

এরআগে তিনি হেলিকপ্টারযোগে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্স মাঠে নামেন। এরপর দুপুর বারোটার দিকে মঞ্চে উঠে প্রধান অতিথির ভাষন দেন। প্রায় আধাঘন্টার বেশি সময় ধরে বক্তব্য দেন তিনি।

সকাল থেকেই জেলার চারটি সংসদীয় আসন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে জনসভাস্থলে।

এনজে