এখনই বন্ধ হচ্ছে না জিএসপি- প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি
সানবিডি২৪ প্রকাশ: ২০২৬-০১-২৭ ২১:২৭:৫০

এখনই বন্ধ হচ্ছে না পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত তিন নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই)। কোম্পানিগুলোর আর্থিক সূচক উন্নতি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
সূত্র মতে, কোম্পানিগুলো হলো- জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি। এর আগে উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি প্রতিষ্ঠান কেন বন্ধ করা হবে না—এ মর্মে গত বছরের মে মাসে নোটিস দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে খেলাপি ঋণে জর্জরিত ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ করার কথা জানানো হয়। এ খাতের আরও ১১ প্রতিষ্ঠান বন্ধের পাইপলাইনে থাকার কথাও জানানো হয়। সমন্বিত ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ কার্যকরের পর এটি দেশের প্রথম বড় অবসায়ন (বন্ধ) প্রক্রিয়া যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি হস্তক্ষেপ করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ, সম্পদ বিক্রি ও আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিলো পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। পাইপলাইনে থাকা বাকি ১১ প্রতিষ্ঠান হলো সিভিসি ফাইন্যান্স, বে লিজিং, ইসলামী ফাইন্যান্স, মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স, হজ ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স, আইআইডিএফসি, উত্তরা ফাইন্যান্স, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স ও ইউনিয়ন ক্যাপিটালকে টিকে থাকার পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্য থেকে জিএসপি- প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসিকে ৬ মাস সময় দেওয়া হলো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
জানা গেছে, গত ৩০ নভেম্বর গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রতিষ্ঠানগুলো লিকুইডেশন বা অবসায়ন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা, লিকুইডেটর নিয়োগ, সম্পদ বিক্রি এবং প্রাপ্ত অর্থ দাবিদারদের মধ্যে বণ্টনের কাজ শুরু করবে। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছিল না। অনেকেই মাসের পর মাস অপেক্ষা করছেন, কেউ কেউ বছরের পর বছরও টাকা পাননি।
এই উদ্যোগ এমন সময়ে এলো, যখন শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাংক একীভূতকরণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে নতুন ব্যাংকটির কার্যক্রমের অনুমোদন দিয়েছে।
সমন্বিত ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়লে তা একীভূত, পুনর্গঠন বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ বা যেকোনোভাবে সমাধান করা যাবে। পাশাপাশি সম্পদ বিক্রির পর কোনো ক্রমানুসারে ঋণদাতাদের টাকা পরিশোধ হবে, তাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের শেষে এনবিএফআই খাতের মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২৫ হাজার ৮৯ কোটি টাকা। ঋণের ৫২ শতাংশের দায় বন্ধ হতে যাওয়া ৯টি প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠানের গড় শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ঋণাত্মক ৯৫ টাকা, ফলে দেনা পরিশোধের পর সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কার্যত কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। ৯ প্রতিষ্ঠানে মোট আটকে থাকা আমানত ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তিগত আমানত তিন হাজার ৫২৫ কোটি এবং ব্যাংক ও করপোরেট আমানত ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫ এর আওতায় সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের বিধান রয়েছে। তবে অবসায়ন করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। ৩০ নভেম্বরের পর্ষদ সভায় বেশ কয়েকটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অবসায়ন করবে এ বিষয় সিদ্ধান্ত নেবে।
তবে আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে না পারা, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতি রয়েছে এ তিন সূচককে ভিত্তিতে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছিলো।







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












