সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

ছাপানো হচ্ছে ২৬ কোটি ব্যালট, ব্যয় ৪০ কোটি টাকা

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০১-২৮ ২০:২৬:৪১


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ছাপানো হচ্ছে ২৬ কোটি ব্যালট পেপার। প্রথমে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ছাপানোর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে গণভোট অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দুই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই ভোট একসঙ্গে করতে দ্বিগুণ ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে। তবে দ্বিগুণ ব্যালট ছাপানো লাগলেও ব্যালট পেপার ছাপাতে অতিরিক্ত কাগজ কিনতে হয়নি নির্বাচন কমিশনকে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাজেট শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সংসদ নির্বাচনের জন্য ব্যালট পেপার ছাপানোর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ছিল নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তবে গণভোট অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনেও প্রস্তুতি নিয়েছে কমিশন। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানে প্রায় ২৬ কোটি ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে। দুই ভোটের ব্যালট পেপার ছাপাতে মোট ব্যয় হচ্ছে ৪০ কোটি টাকা। তবে এই গণভোটের জন্য আলাদা করে ব্যালট পেপার কেনা হয়নি। সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের (ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ব্যতিত) জন্য ব্যালট পেপার কেনা হয়েছিল। আপাতত এইসব ব্যালট পেপারই গণভোটের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য পরবর্তী সময়ে আবারও ব্যালট পেপার কেনা হবে বলেও জানায় বাজেট শাখা।

ইসি জানায়, গণভোটের প্রচারের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ৪৬ কোটি টাকা, তথ্য মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা, ধর্ম মন্ত্রণালয় ৭ কোটি টাকা, এলজিইডি ৭২ কোটি টাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এই ছয় মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চার মন্ত্রণালয় বরাদ্দ পেয়েছে এবং সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর দেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা গণভোট প্রচারে ৪ কোটি টাকা ব্যয় করছে।

ইসির বাজেট শাখা জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য মোট বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য ব্যয় হবে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, পরিচালনায় ব্যয় হবে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। সব মিলিয়ে নির্বাচনী ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকার উপরে গিয়ে ঠেকেছে।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানান, প্রথমে আমরা জাতীয় নির্বাচনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাই। পরবর্তী সময়ে আমাদের সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট করার জন্য নির্দেশনা দেয় সরকার। সে মোতাবেক আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত বাজেটের চাহিদা পাঠাই। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাই। সব মিলিয়ে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। সেইসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ অনুযায়ী কিস্তির টাকা সময়মতো পেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বিএইচ