ডিএসইর মূল লক্ষ্য মূলধন উত্তোলনে একটি স্বচ্ছ, দক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করা

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০১-২৮ ২১:৩১:০১


পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তিকে কেবল আর্থিক অর্জন নয়, বরং মূলধন উত্তোলনে একটি স্বচ্ছ, দক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)। নতুন প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বিধিমালার মাধ্যমে মানসম্মত কোম্পানির তালিকাভুক্তি সহজ হবে, বাজারে শৃঙ্খলা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দৃঢ় হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই ট্রেনিং একাডেমিতে ‘প্রবৃদ্ধির পরবর্তী পদক্ষেপ : তালিকাভুক্তির পথে অগ্রযাত্রা—প্রবৃদ্ধি, সুশাসন ও বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদারের কৌশলগত দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক সেমিনারের আলোচনায় এসব তথ্য জানানো হয়। এতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, ডিএসই এবং অতালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত প্রধান রেগুলেটরি কর্মকর্তা (সিআরও) মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের মূল লক্ষ্য হলো মূলধন উত্তোলনের জন্য একটি স্বচ্ছ, দক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করা। নতুন আইপিও রুলস–২০২৫ মানসম্মত কোম্পানির তালিকাভুক্তি, শক্তিশালী কর্পোরেট গভর্ন্যান্স এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই পুঁজিবাজার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শফিকুল ইসলামের ভাষায়, নতুন কাঠামোতে তালিকাভুক্তিকে কৌশলগত প্রবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গভর্ন্যান্সকে তালিকাভুক্তির পূর্বশর্ত করা হয়েছে এবং স্বচ্ছতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতা আরও জোরদার করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া আরও বলেন, ডিউ ডিলিজেন্স ও তালিকাভুক্তির পরবর্তী দায়বদ্ধতা শক্তিশালী করায় বাজারে শৃঙ্খলা, সঠিক মূল্য নির্ধারণ ও বিনিয়োগকারী সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

সেমিনারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রণীত পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫ নিয়ে আলোচনা হয়। বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুত্ফুল কবির নতুন বিধিমালার পটভূমি, প্রধান পরিবর্তন, আইপিও প্রক্রিয়া, বুক বিল্ডিং ও আন্ডাররাইটিং প্রক্রিয়ার সংস্কার তুলে ধরেন।

শেখ মো. লুত্ফুল কবির বলেন, নতুন বিধিমালা আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সময়োপযোগী ও বাজারবান্ধব করবে। সম্ভাবনাময় কোম্পানির পুঁজিবাজারে প্রবেশ সহজ হবে এবং বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তানজিব আলমগীরের নেতৃত্বে একটি টিম ‘প্রসেস অব অনবোর্ডিং প্রসপেক্টিভ ইস্যুয়ারস আন্ডার দ্য নিউ রুলস’ বিষয়ে প্রেজেন্টেশন দেয়। প্রেজেন্টেশনে সফল আইপিও প্রক্রিয়ার তিনটি মূল ধাপ কৌশলগত পরিকল্পনা, আইপিও প্রস্তুতি এবং আইপিও লেনদেন সম্পাদন সম্পর্কে তুলে ধরা হয়।

ডিএসইর প্রোডাক্ট অ্যান্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান সাইদ মাহমুদ জুবায়ের ‘আনলকিং অপরচুনিটিজ : এ ক্যাপিটাল মার্কেট ওভারভিউ’ শীর্ষক প্রেজেন্টেশনে বাজার কাঠামো, তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া, নতুন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম এবং পুঁজিবাজারভিত্তিক অর্থায়নের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি ইকুইটি ও ঋণভিত্তিক অর্থায়ন, রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ তহবিল (আরইআইটি) ও এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডের (ইটিএফ) মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।

প্রেজেন্টেশনে কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও) কাঠামোর মাধ্যমে ক্ষুদ্র মূলধনী ও স্টার্টআপ কোম্পানির বাজারে প্রবেশের সুযোগও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এটিবি প্ল্যাটফর্মে কম খরচে শেয়ার হস্তান্তর, আধুনিক ট্রেডিং সিস্টেম এবং বিদ্যমান কর সুবিধাকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে ডিএসইর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মো. আসিফুর রহমান বলেন, আইপিও নতুন নিয়ম প্রণয়নে বিএসইসি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে এবং ডিএসই, সিএসইসহ সব স্টেকহোল্ডার এতে সম্পৃক্ত ছিলেন। বাজারের বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় রেখেই নীতিমালা তৈরি হয়েছে। এতে কিছু দায়িত্ব ও জটিলতা স্বাভাবিকভাবেই রয়েছে, তবে আগের তুলনায় বর্তমান অবস্থান উন্নত।

ড. আসিফুর রহমান আরও বলেন, টাইমলাইনের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বড় অগ্রগতি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে সিস্টেম প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি বাজারের জন্য শক্তিশালী ইতিবাচক সংকেত হবে।

আসিফুর রহমান জানান, ভবিষ্যতে অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়মগুলো আরও পরিমার্জন করা হবে, যাতে একটি পরিপক্ব ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রিত স্টক মার্কেট গড়ে তোলা যায়।

বিএইচ